শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবিরকে ভোট দেয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘লজ্জাহীন পতিতালয়’ বললেন ছাত্রদল নেতা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১১ পিএম
রায়হান আহম্মেদ সিব্বির এবং ঢাবি ও ছাত্রদল লোগো
expand
রায়হান আহম্মেদ সিব্বির এবং ঢাবি ও ছাত্রদল লোগো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ও হল ছাত্রদলের সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহম্মেদ সিব্বির ওরফে সুহৃদ রায়হান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) নিয়ে আবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।

তার মন্তব্যে ঢাবিকে তিনি ব্রোথেল অর্থাৎ পতিতালয়ের সঙ্গে তুলনা করেন। বেশকিছু দিন আগে করা এ মন্তব্য করলেও, সম্প্রতি বিষয়টি ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা ও তোলপাড় চলছে।

তার ভাষ্য, ‘এটা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) একটা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন বললেও কম হবে। এটি পরিণত হইছে একটা লজ্জাহীন ব্রোথেল-এ (পতিতালয়)। এইখানের কাস্টমার এবং রিটেইলার একই কিসিমের।’ যদিও তার দাবি, বক্তব্যে তিনি মেটাফোর ব্যবহার করেছেন।

জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর তারিখ নিয়ে ডাকসুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ‘জকসু নির্বাচনকে ভয় পেয়েই কি আজকে ভোরে খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘোষণা?’ শীর্ষক একটি বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট করেন, যেটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি ক্ষমা চান। এসময় তার পোস্টটি শেয়ার করে এবং প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পোস্ট করেন এই ছাত্রদল নেতা রায়হান আহম্মেদ সিব্বির। এতেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বর্তমানে সমালোচনা হচ্ছে।

৩০ ডিসেম্বর দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের এ শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আমি যদি বলি, ঢাবির ম্যাজোরিটি মূর্খ যারা এদের ভোট দিয়ে জিতাইছে, যাদের মিনিমাম কার্টেসি নাই। ভদ্রতা সমবেদনা নাই। আমি ভুল বলব? না। ঢাবি সময়ের পরিক্রমায় জ্ঞানহীন, বিচক্ষণহীন এক স্কুলে পরিণত হইছে।

এইখানে কোন জ্ঞান চাষ হয় না। যা হয়, যতটুকু হয়, সেইটা পপুলিজম, সেইটা কোনমতে পাস করার একটা পথ। একটা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন বললেও কম হবে। এটি পরিণত হইছে একটা লজ্জাহীন ব্রোথেল-এ (পতিতালয়)। এইখানের কাস্টমার এবং রিটেইলার একই কিসিমের।

এদিকে, তার মন্তব্যের সমালোচনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য মেফতাহুল হোসাইন আল মারুফ ফেসবুকে লেখেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য,বর্তমানে জিয়া হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক, একই সাথে জিয়া হল সংসদের ছাত্রদল মনোনীত ও নির্বাচিত সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহমেদ শিব্বির ওরফে সুহৃদ রায়হান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে একটি লজ্জাহীন বেশ্যালয়ে (ব্রোথেল)।

কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে ছাত্রশিবিরের সমর্থিত প্যানেলকে অধিকাংশ পদগুলোতে বিজয়ী করেছে। শিক্ষার্থীরা এইখানে খদ্দের এবং বিক্রেতা।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহেদ হোসাইন ইমন বলেন, তিনি (সুহৃদ রায়হান) সরাসরি ঢাবিকে নিয়ে এমন বাজে মন্তব্যগুলো করেছেন। ঢাবিকে কিন্ডারগার্টেন, বেশ্যাখানা বলে উল্লেখ করেছেন। একই সাথে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।

আমিনুল ইসলাম সোহান ফেসবুকে লেখেন, হেমা চাকমারা এখন চুপ থাকবেন, প্রয়োজনে মায়া কান্না কেঁদে ভিক্টিম কার্ড প্লে করবেন। ঘটনা অন্যদিকে নিয়ে যাবেন। এটাতে হেমা চাকমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। হেমারা চুপ থাকবেন কারণ ঢাবিকে ইংরেজিতে 'বেশ্যাখানা' বলা ভাইটি ঢাবি ছাত্রদলের পদস্থ নেতা এবং হাসিনা রেজিমে ছিলেন সোশাল সায়েন্স শাখা ছাত্রলীগের পদস্থ নেতা। কুশপুত্তলিকা দাহন হবে কাঠালপাড়ার জামাতের মুরব্বির আর এই বাম সুশিল পদস্থ ভাইটি 'মাদ্রাসা'কে অবমাননা করেও বেঁচে যাবেন, কারণ তিনি হেমা চাকমার সহযোদ্ধা। ছাত্রলীগের পদ থেকে ছাত্রদলে ম্মুথ ট্রানজিশান হয়েছে এই বাম করার কারণে।

অন্যদিকে, নতুন করে সমালোচনার জবাবে ছাত্রদল নেতা রায়হান গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

এ পোস্টে তিনি লেখেন, ম্যাডামের ডেথ বা অন্য যে কারো মৃত্যু নিয়ে যারা নোংরামি করতে পারে, তাদের সাথে ব্রোথেল ম্যাটাফর জুড়ে দেওয়া বেশি অযৌক্তিক? আমি মনে করি না। এইখানে কোন এক্সকিউজ নাই। শব্দের অলঙ্কার নাই। যারা প্রোপাগাণ্ডা ক্যামপেইন করতেছে, তাদের বলি, ঢাবি আসলেই দিনদিন একটা জ্ঞানহীন বিদ্যাপিঠে পরিণত হইছে। জ্ঞানের চাষ না। ঘৃণার হয়। পপুলিজমের চর্চা হয়। মবোক্রেসির ক্যান্টনমেন্ট হয়। এইটার পরিবেশ তো যে কোন প্রাইমারি স্কুলের চাইলে ভালো। এটাই সত্য। তার উদাহরণ আমারে নিয়া এক মাস আগের ভিন্ন কনটেক্সের একটা ক্যাপশন নিয়া বটঝড়। মিডিয়া ট্রায়াল। এরা ভাত খাইয়াইয়া চুর সন্দেহে মানুষ পিটায়া মারে। বিচার হয় না।

তিনি আরও লেখেন, এরা ভোট দিয়া গান্ডু নির্বাচিত করে, যারা স্লাটমেশিং করে, মৃত্যু নিয়ে মসকারা করে, মোরাল পুলিশিং করে, যারা না বুঝে ইউরেনিয়াম না বুঝে চারুকলা। এরা না বুঝে কবিতা। না বুঝে আর্ট কালচার। একবার নিৎসে সাহেব বলছিলেন, গড ইজ ডেড। তখন যদি ভুলেও শিবিরের রাহবাররা বেঁচে থাকতো, বলতো, নিৎসের গোষ্ঠীকে আজ বারোটা বাজাইয়া দিব। নিৎসে একজন ইসলামোফোব, বাম গোসলহীন মানব। এজন্য বলি, আল্লাহ তুমি তাদের জ্ঞান বাড়াইয়া দিতে সূদুর চীন দেশ প্রেরণ কর।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X