সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘গুপ্ত’ আতঙ্কে আটকে আছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি!

মো. ইলিয়াস
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্বের বিদায়ের পর ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘোষণা হয়নি সংগঠনটির নতুন কমিটি। নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও পদপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক অতীত ও পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে কমিটি ঘোষণায় কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র।

সূত্রগুলোর দাবি, এবার ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয়টিকে। বিশেষ করে ছাত্রলীগ বা ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে অতীতে যুক্ত ছিলেন; এমন কেউ যাতে কৌশলে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ঢুকতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র দলের বিভিন্ন ইউনিট কমিটির অনেক নেতাদের বিষয়ে সংগঠনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার ক্ষমতাসীন দল হওয়ায় ছাত্রলীগ বা ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন অনেকে বিভিন্ন কৌশলে ছাত্র দলের কমিটিতে আসতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে। নতুন কমিটিতে অনুপ্রবেশ ঠেকানোই হচ্ছে বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন কমিটিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কয়েক ধাপে তদন্ত হচ্ছে। দলীয় পর্যায়ের অনুসন্ধানের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

পদপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা, অতীতের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। জেলা বিএনপির নেতাদের কাছ থেকেও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

সূত্রের দাবি, তদন্ত-যাচাইয়ের বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ছাত্র দলের দুইজন হেভিওয়েট পদ প্রত্যাশীর পরিবারে ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন পাওয়া গেছে। এজন্য তারা নতুন কমিটি থেকে ছিটকে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য নেতাদের তালিকা এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন জানান, তারা জানতে পেরেছেন ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে যারা পদ প্রত্যাশী তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এটা নতুন কিছু নয়, নতুন কমিটি ঘোষণার আগে সব সময় খোঁজ নেয়া হয়ে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আগামী মাসে যে কোনো সময় কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সূত্র বলছে, নতুন কমিটি গঠনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্লিন ইমেজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষার্থী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করা হবে। এদিকে শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তের সাংগঠনিক তৎপরতা ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে গত ১৩ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিদায়ী শীর্ষ পাঁচ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে অংশ নেন ছাত্রদলের বিদায়ী কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান।

সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে নেতাদের অবহিত করেন। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বর্তমান কমিটি থেকে বিদায় নেন সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

তারেক রহমান বিদায়ী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসবে বলেও আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন নেতৃত্ব বের করে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। নেতৃত্বের জট তৈরি করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদক বিদায়ী বার্তা দেয়ার পর থেকেই নয়াপল্টন ও গুলশানকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে গত পদপ্রত্যাশীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কেউ নিজের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরছেন, কেউ আবার জেলা-মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাদের সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন