

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় অনেকে সমঝোতার নামে ইনিয়ে-বিনিয়ে চাঁদাবাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। খুলনাতেও শুনেছি হোটেলগুলোতে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বাসস্টেশনে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। ভদ্রতার মুখোশ পড়ে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা খুলনাতে চাঁদাবাজি করছেন, আমরা তাদের নামও জানি, চিনি।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির উদ্যোগে বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছিল, আহত হয়েছিল, তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকে সংসদ ভবনে ১২ তারিখে অধিবেশন শুরু করতে যাচ্ছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সেই দিন (১২ মার্চ) যদি আমাদের পুলিশ দিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়, আমরা আপনাদের বলে দিতে চাই, আমরা এই সংস্কারের জন্য রাজপথে নেমেছিলাম।
আমাদের একজনকে মেরেছিল, চল্লিশজন সামনে গিয়েছিল। চল্লিশ জনকে মেরেছিল চারশ জন গিয়েছিল। আমরা সেই দিন ভয় পাইনি। কাকে ভয় দেখান? মামলা-হামলা করে ভয় দেখান? আমি যখন ক্যাম্পাসে ছিলাম ন্যাশনালিস্ট ফোর্সের কাউকে তো দেখিনি, রাজু ভাস্কর্যে একাই সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে ৫৪ দিন বসেছিলাম।
আপনারা যখন বিদেশে ছিলেন, জেলের মধ্যে ছিলেন, আমরা ক্যাম্পাস আন্দোলন করেছিলাম, আপনাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। আপনারা তখন মজলুম ছিলেন, কিন্তু এখন যদি জালেম হিসেবে আবির্ভূত হন, আমরা কোনো জালেমকে ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতি নই।
তিনি আরো বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে খুলনার প্রাণ বৈচিত্র থেকে শুরু করে সবকিছু নষ্ট হচ্ছে। মানুষ জানিয়েছে কোস্টাল এরিয়াতে লবণাক্ত পানির পরিমাণ বাড়ছে।
কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে খুলনাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি- শেখ হাসিনা কুসুম কুসুম প্রেম করে ভারতের সাথে খুলনাতে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে দিয়েছিল, খুলনার মানুষের গলার ওপরে পা দিয়ে বসেছিল, অতিদ্রুত ভারতের সাথে সেই চুক্তি বন্ধ করে ভারতীয় এই ধ্বংসকারী পাওয়ার প্ল্যান্ট খুলনা থেকে বন্ধ করতে হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় অনেকে সমঝোতার নামে ইনিয়ে-বিনিয়ে চাঁদাবাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। খুলনাতেও শুনেছি হোটেলগুলোতে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বাসস্টেশনে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। ভদ্রতার মুখোশ পড়ে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা খুলনাতে চাঁদাবাজি করছেন, আমরা তাদের নামও জানি, চিনি। আমরা আপনাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলে দিতে চাই- সেটা বন্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন
