শনিবার
০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চা বিক্রি করেই জীবিকার লড়াই বৃদ্ধ করিমের

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ১২:২০ পিএম
চায়ের ফ্লাক্স হাতে ৬৫ বছর বয়সী করিম মিয়ার।
expand
চায়ের ফ্লাক্স হাতে ৬৫ বছর বয়সী করিম মিয়ার।

সংসারের দায়িত্বের কাছে বয়স যেন কেবলই একটি সংখ্যা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যেখানে বিশ্রামের কথা, সেখানে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই দিন কাটছে ৬৫ বছর বয়সী করিম মিয়ার। দেশে সরকারি ভাবে নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তা থেকে বঞ্চিত তিনি।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের পাঞ্জনখাড়া এলাকার বাসিন্দা করিম মিয়া, যিনি এলাকায় “কাঙ্গাল” নামেও পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পরিবারে ছেলে-মেয়ে থাকলেও তাদের স্বল্প আয়ে সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে এই বৃদ্ধ বয়সেও জীবিকার তাগিদে শ্রমের পথে নামতে হয়েছে তাকে।

জানা যায়, প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে তিন বেলাতেই বাড়ি থেকে বের হন করিম মিয়া। হাতে একটি চায়ের ফ্লাক্স নিয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটে তিনি বিভিন্ন স্থানে চা বিক্রি করেন। প্রতি কাপ চা বিক্রি করেন মাত্র ৫ টাকায়। দিন শেষে রাত গড়িয়ে সামান্য যে আয় হয়, তা নিয়েই ঘরে ফিরেন সে।

অন্যদিকে ২১ বছর বয়সী করিম মিয়ার ছেলে রাকিব মোল্লা। তিনিও তার বাবার মত চা বিক্রি করছেন, তবে ছোট একটি টিনের ছাউনিতে বসে। তবে অন্য সব দোকানের মত নেই আভিজাত্যের ছোঁয়া।

বাপ-ছেলের যা রোজগার হয় তা দিয়েই কেবল তার পরিবারে খাবারের একমাত্র ভরসা। সেই সাথে রাকিবের ছোট বোন তার পড়াশোনার খরচ তো আছেই।

করিমের স্ত্রী নাজমা আক্তার বলেন, কত মানুষরে সরকার কত কিছু দেয় কিন্তু আমরা কিছুই পাই না। দেখি মাইনসে চাইল, ডাইল কত কিছু নিয়া যায় কিন্তু আমরা কখনও এইসব কিছু পাই নাই। আমার স্বামী-সন্তান কত কষ্ট করে চলতাছে, সরকার আমাগো দিকে তাকাইলে একটু শান্তি পাইতাম।

করিম মিয়া বলেন, আমি ১৯৯০ সাল থিকা এই চা বেইচা খাই। তহন এক কাপ চা বেচতাম ১ ট্যাকা কইরা। আমার কাম করতে ভালো লাগে তাই এহনো এই চা বেইচা চলতাছি।

তিনি আরও বলেন, এহন ৫ ট্যাকা কাপ চায়ের দাম নেই। সবাই আমারে অনেক ভালোবাসে। আমার জন্যে অনেকেই বইসা থাকে চা খাওয়ার লিগা। অনেক সময় শরীর খারাপ লাগে তাও বের হই কয়ডা ট্যাকার জন্যে। সরকার আমারে একটু সাহায্য করলে আমার চলতে সুবিধা হইতো।

স্থানীয়রা বলছেন, অনেক আগে থেকেই তিনি এইভাবে পায়ে হেঁটে চা বিক্রি করেন। কখনো কারও সাথে ওনাকে ঝগড়া করতে দেখা যায়নি। চা বিক্রি শেষে পায়ে হেঁটেই ফিরেন বাসায়, ওঠেন না গাড়িতে। মাঝেমধ্যে গভীর রাতেও দেখা যায় একাই হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারে সরকার সহায়তা করলে তার অনেক উপকার হবে বলেও জানান স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী নাসরিন অসুস্থ অবস্থায় মুঠোফোনে বলেন,‌ তিনি আমাদের কাছে আবেদন করলে, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখবো এবং সম্ভাব্য সব উপায়ে সহযোগিতার চেষ্টা করবো।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন