

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রায় ১৭ বছরের স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে দেশে ফেরার দু’মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জোট সংসদীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয় অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে তিনি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন—যে পদে অতীতে অধিষ্ঠিত ছিলেন তার বাবা-মাও।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতির উদ্দেশে ঐক্যের আহ্বান জানান তারেক রহমান এবং তার এই বিজয়কে ‘গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারীদের’ উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য একটি সমষ্টিগত শক্তি, আর বিভাজন মানে দুর্বলতা।’
২০২৪ সালে জেনারেশন-জেড নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই ফলাফল দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে ওই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৪০০ এর বেশি মানুষ নিহত হন। বর্তমানে নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া। তারেকের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নেতা এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন, পরে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
২০০৮ সালে সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজনে লন্ডনে যান তারেক রহমান। গত বড়দিনে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ স্ত্রী ও আইনজীবী কন্যাকে নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পাঁচ দিন পর তার মায়ের মৃত্যু হলে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
নির্বাচনী প্রচারে তারেক রহমান একক শক্তির ওপর অতিনির্ভরতা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্বিন্যাসের অঙ্গীকার করেন, যাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়। এছাড়া দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত শিল্পের প্রসার, এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করলেও ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি। পরবর্তীতে বস্ত্র ও কৃষিপণ্য খাতে ব্যবসা শুরু করেন।
হাসিনা সরকারের আমলে দুর্নীতির একাধিক মামলায় অনুপস্থিতিতে দণ্ডিত হন তিনি। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০১৮ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। হাসিনার পতনের পর সব মামলায় তিনি খালাস পান।
দেশে ফেরার পর থেকে তারেক রহমান তুলনামূলক সংযত ও মিতভাষী অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিশোধে কোনো কল্যাণ নেই। এখন দেশের প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’
বিএনপির অভ্যন্তরে তার প্রভাব সুদৃঢ়। প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ ও জোট গঠনে তিনি সরাসরি ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ক্ষমতায় বসার প্রাক্কালে তারেক রহমান বলেছেন, তার সরকারকে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অবনত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেছেন, ‘শুধু গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি ও দেশকে পুনর্গঠন করতে পারি। জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই, আমরা আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’
মন্তব্য করুন
