

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের একটি ছবি দিয়ে এটিকে ‘শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ছবিটি সাম্প্রতিক কোনো বৈঠকের নয়। এটি ২০২৩ সালের একটি পুরোনো ছবি, যা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
রোববার (৯ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করা হয়।
মন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ছবিটি ২০২৩ সালের ৪ মে সময় টেলিভিশনের ‘রাতের টকশোর পূর্বে’ তোলা। পুরোনো ওই ছবিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
পোস্টে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কখনো স্তব্ধ করা যায়নি। তিনি নিয়মিত ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।
মন্ত্রীর পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, দেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের চলমান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরির এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এদিকে এর আগে রোববার সকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটি শেয়ার করেন। ছবিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এবং আরেক ব্যক্তিকে দেখা যায়।
ছবিটির ক্যাপশনে পাটওয়ারী লেখেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।’
পরে ছবির সঙ্গে থাকা স্বয়ংক্রিয় দিন-তারিখের তথ্যে দেখা যায়, ছবিটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তার পোস্টে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শুরু করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কমেন্টে আরও কিছু তথ্য দেন।
সেখানে তিনি দাবি করেন, এহছানুল হক মিলন ও শাজাহান খানের সঙ্গে বসে থাকা ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই চৌধুরী। তাঁর দাবি, আব্দুল হাই চৌধুরী বর্তমানে চাঁদপুরের কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পাটওয়ারী আরও দাবি করেন, আব্দুল হাই চৌধুরী ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘উনি তো ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই আমলে তিনি কীভাবে এত দ্রুত প্রমোশন পেলেন এবং কীভাবে শিক্ষামন্ত্রীর নিজ এলাকায় পোস্টিং পেলেন?’
পাটওয়ারীর ভাষ্য, বিষয়টি নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণের স্বার্থে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুরোনো ছবিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচারের পরিবর্তে সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছে।