শুক্রবার
২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শেখ মুজিব ৭ মার্চের ভাষণ জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান বলে শেষ করেছিলেন’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
expand
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণ ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ বলে শেষ করেছিলেন। এমনটিই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে শুরু হলো যুদ্ধ, এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘স্বাধীনতার যুদ্ধের আলোচনা করতে গেলে এটা তো অনেক লম্বা ঘটনা। শর্ট করে যদি বলি, মার্চের ১-৭ তারিখ পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিলের শহরে রূপান্তরিত হয়। সেই সময়ের বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান, যাকে ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ৭ মার্চ জনসভায় এলেন। সেই জনসভায় দল-মত-নির্বিশেষে বাঙালি জাতি এক হয়ে উপস্থিত হয়।’

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “৭ মার্চ উনি (শেখ মুজিবুর রহমান) যে ভাষণটা দিয়েছিলেন, আমি নিঃসন্দেহে বলব, তা উনার জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণ। আমার জীবনে আমি যতগুলো ভাষণ শুনেছি, তার মধ্যেও শ্রেষ্ঠ ভাষণ। আমি খুব ছোট ছিলাম তখন, শেখ মুজিবের এই ভাষণটা আমাকে উদ্বেলিত করেছিল। বাংলাদেশের জনগণ ওই মাঠে গিয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার জন্য। মাঠ থেকে মুহুর্মুহু স্বাধীনতার স্লোগান উঠেছে এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব তার ভাষণের মধ্যে খুব সুন্দর করে জনগণের চাহিদা এবং তার নিজের চাহিদাকে ব্যালেন্স করে বক্তব্য দিচ্ছেন। বক্তব্য নিঃসন্দেহে ভালো বক্তব্য ছিল, আমারও রক্তচাপ বাড়ছিল। তখন উনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন না। উনি বক্তৃতা শেষ করলেন ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম’ বলে। শেষে বললেন, ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’।”

তিনি বলেন, “ওই ভাষণের মধ্যে উনি পাকিস্তান রাষ্ট্রকে অক্ষুণ্ন রেখে বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য নানা রকমের যুক্তির অবতারণা করেছেন, যেগুলো ক্ষুরধার ছিল এবং সেই বক্তব্যের মধ্যে একটি জায়গায় পাকিস্তানি আর্মিদের তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা আমার ভাই, আপনারা ব্যারাকে চলে যান’। তারপরে আবার বলেছেন ‘একটা গুলি চললে, বীর বাঙালিরা আরও রক্ত দেবে’। আবার এক জায়গায় বলেছেন যে ‘আসুন বসুন আলোচনা করি, পার্লামেন্ট দেখুন, ক্ষমতা হস্তান্তর করুন’। বক্তৃতা থেকে বোঝা যায় যে উনি পাকিস্তানের অখণ্ডতা চেয়েছিলেন।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘পরবর্তীতে ইয়াহিয়া খান ১৫ তারিখে ঢাকায় আসেন এবং ১৫ তারিখ থেকে ২৫ তারিখ রাত পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আমি এইজন্য বলছি যে, ওটা স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল না। স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর তো যুদ্ধ শুরু হওয়ার কথা।’

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরিবর্তে ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছিল, সে বৈঠকে ছয় দফা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেজন্য ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ঘোষণা না, ৭ মার্চের ভাষণ ছিল ছয় দফার ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠনের প্রচেষ্টা। এমনকি ২৫ মার্চ দুপুরে বিদেশি সাংবাদিকদের আলোচনার অগ্রগতি আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘তাহলে আলোচনার করছি কেন?’”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন