বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে হিজাব সংস্কৃতির উত্থান

রাবি অধ্যাপক রাইহানার বিশ্লেষণ
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৮ এএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. রাইহানা শামস ইসলাম
expand
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. রাইহানা শামস ইসলাম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. রাইহানা শামস ইসলাম মনে করেন, গত এক যুগে বাংলাদেশে হিজাব পরিধানের সংস্কৃতিতে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আজ থেকে ১২-১৫ বছর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় বা শহুরে মধ্যবিত্ত সমাজে হিজাব ছিল খুবই বিরল। এখন সেই দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে—ছাত্রী থেকে শিক্ষক, কর্মজীবী নারী থেকে সাধারণ মানুষ—সবখানেই হিজাব স্বাভাবিক এক পোশাক হয়ে উঠেছে।”

অধ্যাপক রাইহানা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে যখন তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কেমব্রিজে যান, তখনও হিজাব ছিল না তার নিয়মিত পোশাকের অংশ। বিদেশে থাকার সময় পশ্চিমা পোশাকেই ছিলেন স্বচ্ছন্দ। দেশে ফিরে আসার পর তিনি নিজেই হিজাব গ্রহণ করেন।

“তখন অনেকেই অবাক হয়েছিল,” লিখেছেন তিনি। “অনেকে প্রশ্ন করত—‘হঠাৎ কেন হিজাব ধরলে’, ‘স্বামী বলেছে নাকি’, ‘গরম লাগে না?’ কিংবা কেউ কেউ পরামর্শ দিত—‘স্কার্ফটা খুলে ফেলো, আরও তরুণ দেখাবে’। কিন্তু আমি জানতাম, এটা আমার নিজের সিদ্ধান্ত, আমার বিশ্বাসের অংশ।”

তার মতে, এই পরিবর্তন কেবল পোশাকের নয়—এটি বিশ্বাস, আত্মপরিচয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন। “যে নারী সচেতনভাবে হিজাব পরিধান করেন, তিনি আসলে নিজের প্রতি এবং স্রষ্টার প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেন। হিজাব শুধু কাপড় নয়, এটি এক আত্মবিশ্বাস ও নিবেদনের প্রতীক,” বলেন অধ্যাপক রাইহানা।

তিনি আরও যোগ করেন, “হিজাব ঐশী বিধানের অন্তর্ভুক্ত। কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় স্বেচ্ছায় তা ধারণ করেন, সেটা তার আত্মিক প্রশান্তি ও মর্যাদার প্রকাশ। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর পূর্ণ স্বাধীনতা ও সক্ষমতা রয়েছে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank