সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমন্বয়হীন প্রকল্পে বিপুল অর্থ খরচ, কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি
expand

প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ ও মানবিক জনশক্তি গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

তিনি বলেছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় ওভারল্যাপিং ও ডুপ্লিকেশন হচ্ছে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভো থিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ইনোভেশন ফেয়ারে ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল ৪.০: এমপাওয়ারিং ইয়ুথ থ্রু টেকনোলজিক্যাল অ্যান্ড এডুকেশনাল ইনোভেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কথা বলা হলেও আমরা প্রযুক্তির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছি। প্রযুক্তিকে সব সমস্যার সমাধান মনে করার প্রবণতা থেকে বের হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি ও বিজ্ঞান শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুদের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এআই ও প্রযুক্তি শিক্ষার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যুব ও ক্রীড়া, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে সাইলো ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একই ধরনের প্রকল্পে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় তৈরির চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ডুপ্লিকেশন বন্ধ এবং সর্বোচ্চ ফল নিশ্চিত করা হবে।

দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথাও প্রশিক্ষক নেই, কোথাও শিক্ষার্থী নেই, আবার কোথাও শিক্ষার্থী থাকলেও ভালো প্রশিক্ষকের সংকট রয়েছে। এনএসডিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রমেরও যথেষ্ট সমন্বয় নেই। এসব জায়গায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিয়া, ব্যবসা খাত ও সরকারকে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি জানান, যেসব উপজেলায় টিটিসি নেই, সেখানে ৩২৯টি টিটিসি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতা থাকলেও কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যমান টিটিসিগুলোকে কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

গ্রামাঞ্চলের তরুণদের প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে সরকারি টিটিসির পাশাপাশি সরকার-এনজিও সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব প্ল্যাটফর্মে তরুণরা বিনামূল্যে কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নিয়ে আয় করার সুযোগ পাবেন।

শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বই পড়া ও লেখার অভ্যাস বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি দিয়ে এসবের বিকল্প তৈরি করা যাবে না। কগনিটিভ ডেভেলপমেন্টের জন্য পড়া ও লেখার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।

শিক্ষায় বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পক্ষে সরকার। তবে বরাদ্দের পাশাপাশি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে শুধু তথ্য মুখস্থ করা নয়, বরং কীভাবে চিন্তা করতে হয় এবং কোনো বিষয়ে প্রবেশ করার সক্ষমতা তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, চিন্তাশক্তি ও জ্ঞানচর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই ভবিষ্যতের দক্ষ ও মানবিক জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank