বৃহস্পতিবার
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকট উত্তরণে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: ক্যাব 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

জ্বালানি খাতে ‘লুটপাট বন্ধ’ এবং আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনে তাগিদ দিয়েছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রাপ্ততা এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সেগুনাবাগিচায় সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ তাগিদ দেওয়া হয়।

ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, “যদি জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার, সেটার একটা টাইম লাগবে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এখানে যে চুরি হচ্ছে, সেই লুণ্ঠন সেটা বন্ধ করতে তো কোনো সমস্যা নেই। আমি যদি চুরিও বন্ধ করি, তাহলেও তো একটু কমফোর্ট হবে।”

তিনি বলেন, “আজকে লোড শেডিং হচ্ছে, সেই লোড শেডিংয়ে আমার তো বিল কমার কথা। কিন্তু বিদ্যুতের দাম বেড়েছে কত? এভারেজ ২০ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু বিল তো বেড়েছে ১০০ শতাংশর উপরে।

“আমাদের প্রত্যেকের কিন্তু গত দুই-এক মাসে বিল কিন্তু ডাবল হয়েছে। তাহলে লোড শেডিংয়ের ফলে আপনার তো বিদ্যুৎ দেওয়া কম হয়েছে, সেখানে তো ২০% বাড়লেও বাড়ার কথা না, সমান সমান থাকার কথা। তাহলে এই যে জিনিসগুলো হচ্ছে, তাহলে এটা তো লুণ্ঠন, সেটা বন্ধ করুক “

সফিকুজ্জামান বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য যদি আমদানি নির্ভরতা দিন দিন বাড়ে এবং এমনও হয়েছে যে, পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, আপনার যেটা ওপেন বিটেও যাওয়া যায় না; ওটিএমও (উন্মুক্ত দরপত্র) করবে না, তাদের ডাইরেক্ট পারচেজ করতে হবে। তাহলে আমরা কেন দেরি করছি?

“আমরা যে একটা ওপেন বিটে যেতে হলে যে সময়টা দরকার ছিল, আমরা সেই সময় কালক্ষেপণ করে একদম সংকট যখন ঘনীভূত হচ্ছে, তখন আমরা দেখাচ্ছি যে, সংকট এত হয়েছে, এখন আমরা ডাইরেক্ট পারচেজ করব। তো ডাইরেক্ট পারচেজে তো ট্রান্সপারেন্সি থাকবে না। আপনি এক ব্যক্তিকে বললেন যে, এত টাকার মধ্যে দিয়ে দাও। বিষয়টা তো ওখানে।”

সাবেক এই সচিব বলেন, “জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারে আশু করণীয় আগে চুরি-লুণ্ঠন বন্ধ হোক। আর জনগণকে জানানো, এই যে ১৫ দিন পরে বলছে বিদ্যুৎ এবং গ্যাস স্বাভাবিক হবে।

“এটা আমি জানি না কতটুকু বিশ্বাস করেন বা এখানে আপনার কনসেন্সাস নিলে, এটা তো আরও আগে বলা হয়েছিল যে, ১০ জুনের মধ্যে ঠিক হবে…এই ১০ আর শেষ হয় না; সেই ১০ আর আসে না। আমরা চাই, এটা আসলে তথ্যগুলো ট্রান্সপারেন্ট ভাবে বলা দরকার।”

ক্যাব সভাপতি বলেন, “দেশের প্রায় চারশর বেশি ইন্ডাস্ট্রি এবং আরএমজি সেক্টর আজ চরম সংকটের মুখে রয়েছে। অনেক অর্ডার অন্য দেশে শিফট হয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের বেকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

সফিকুজ্জামান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবহন খাতে অরাজকতা দেখা দেয়, যার প্রভাব সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর পড়েছে। সবজি ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহন খরচ ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

“অতীতে আমদানি নির্ভরতার ওপর অতিরিক্ত ফোকাস করা হলেও বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সিস্টেম লস এবং প্রায় ২০ শতাংশ চুরি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”

ওষুধ নীতির পরিবর্তনের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, অতীতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প আজ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে এবং দেশের চাহিদার ৯৮ ভাগই পূরণ করছে।

“কিন্তু হঠাৎ করে এসেনশিয়াল ড্রাগ লিস্ট থেকে বহু ওষুধ বাদ দেওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া বাজারে নকল ও ভেজাল খাবারের ছড়াছড়ির ফলে এ অসংক্রামক ব্যাধি যেমন ক্যান্সার, কিডনি রোগ ও হৃদরোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।”

সভায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “আমরা এখন গ্যাস পাই না; কিন্তু বিল জরুরিভাবে দিতে হয় এবং না দিলে কী হবে আপনারা জানেন। আমি দাবি করি, যেখানে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না, সেই অঞ্চলে বিল নেওয়া বন্ধ রাখা।

“গণশুনানিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যা বিল দেই তার এক অংশ থাকবে গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে। টাকা নাই এই কথা বলে অনেক সময় উত্তোলন করার ক্ষেত্রে যাতে সমস্যা না হয়।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “উন্নয়ন তহবিলে তিন-চার বছর আগে ৫ হাজার কোটি জমা হয়েছিল বলেই জানি। এখন আমার ধারণা ৬০০০ কোটি টাকার উপরে।

“কিন্তু এই টাকা গ্যাস উন্নয়নের কাজে ব্যবহার না করে এলএনজি আমদানি এবং তার পাইপলাইন নির্মাণের কাজে ব্যয় করা হয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে, আর ৬ হাজার কোটি টাকা আমার গ্যাস উত্তোলনে দেওয়া হয় নাই।”

ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে অভিযোগ করে রাজনীতিক প্রিন্স বলেন, অতীতে যারা জ্বালানি নীতি নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিচার করতে হবে।

“এই সরকার কোনোভাবেই ভুলনীতি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত না হয়ে জনস্বার্থে দায়িত্ব পালন করবে, আমাদের গ্যাস এবং বিদ্যুৎ প্রাপ্তির অপ্রতুলতা দূর করে যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করবে, আমার সেই আহ্বান রইল।”

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্যাব সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ শওকত আলী খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ, ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank