

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু অস্বাভাবিক তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। হত্যাকাণ্ডের আগে মাত্র ১২ ঘণ্টায় দুই আসামির মধ্যে ৩০ বার ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে সিদ্ধার্থের বাবা ও কাকার বাড়ি বিক্রি করে স্বপরিবারে ভারতের শিলিগুড়িতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনার তথ্যও সামনে এসেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গত ১৯ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৮০ ঘণ্টার কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ তার দুটি নম্বর থেকে মুগ্ধের একটি নম্বরে ৩০ বার ফোন করেন। প্রতিটি কলের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১১ থেকে ১৭ সেকেন্ড।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি ফোনকলে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে সন্দেহভাজনের তালিকাও বড় হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের আগে অল্প সময়ের ব্যবধানে ৩০ বার ফোনে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাড়ি বিক্রি করে শিলিগুড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস সম্পর্কে মামাতো ও ফুফাতো ভাই। সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও কাকা বিজয় দাসের বাড়ি ছিল নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশেই।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস আগে তারা প্রতিবেশী স্বর্ণের দোকানের মালিক বিধান চন্দ্র দাসের কাছে ৩৫ লাখ টাকায় বাড়িটি বিক্রির জন্য বায়না করেন। দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর স্বপরিবারে ভারতের শিলিগুড়িতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
জমির ক্রেতা বিধান চন্দ্র দাস জানান, প্রায় দেড় মাস আগে বায়না সূত্রে তিনি জমিটি কেনেন। এ বাবদ ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন।
জেলগেটে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ
চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে জেলগেটে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুপুর ২টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রথম দফায় দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবার দুই আসামিকে জেলগেটে তিন ঘণ্টা করে মোট দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
সোমবার রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। পুলিশ তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
নতুন তথ্যের সঙ্গে জবানবন্দি মিলিয়ে দেখছে পুলিশ
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তদন্তে আরও কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং আগের জবানবন্দির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই দিনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, ঘটনার আগে ও পরে আসামিদের গতিবিধি এবং তাদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে বিভিন্ন আলামতের মিল খুঁজে দেখছে পুলিশ।
সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।


