

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি সম্বলিত একটি বিতর্কিত পোস্টার দেখাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মূলত 'ককরোচ আন্দোলন'-এ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন একঝাঁক তারকা, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শ্রীলেখা।
অভিযোগ ওঠে, আন্দোলন চলাকালীন তার বহন করা পোস্টারটিতে মোদির ছবি কুরুচিপূর্ণ বা আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে অভিনেত্রীর নামে একে একে মোট ১৬টি ফৌজদারি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়।
নিজের সাফাই গেয়ে অভিনেত্রী জানান, সেদিন তার কাছে চশমা না থাকায় পোস্টারের ছবি ও লেখা তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি। বিষয়টি না দেখেই তিনি তা বহন করেছিলেন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে এই ১৬টি মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন শ্রীলেখা মিত্র।
আদালতে শ্রীলেখার পক্ষে সওয়াল করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি যুক্ত পেশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট পোস্টারটি হয়তো রুচিহীন বা আপত্তিকর হতে পারে, কিন্তু তার ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো যুক্তিযুক্ত নয়। অন্যদিকে শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ‘এমন পোস্টার কীভাবে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা যায়?’
সব দিক বিবেচনা করে ভারতীয় হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ অভিনেত্রীকে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছেন।
আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ধরনের কঠোর বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের নিজ নিজ হলফনামা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই স্থগিতাদেশ ও সুরক্ষাকবচ পাওয়ার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন শ্রীলেখা মিত্র। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আদালতের কাছ থেকে আমি এটাই আশা করেছিলাম। আমার আইনজীবীদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’


