

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে নতুন বেতন স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১ এ সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের মূল বেতন ও ভাতাগুলো চার ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এছাড়াও বৈঠকে সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রথম ধাপ: চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: আগামী বছরের জানুয়ারি (বছরের শুরু) থেকে আরও ৩৫ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ: মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে এবং এরপর ওই একই অর্থবছরের জানুয়ারিতে ভাতাগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কৌশল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার একদিকে যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দিচ্ছে না।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। পরের বছরের শুরুতে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তার পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়। এরপর ওই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হয়েছে।
অষ্টম পে কমিশন গঠনের প্রায় এক দশক পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। বাস্তবায়ন তদারকির জন্য ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে যার প্রধান করা হয়।


