শনিবার
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-চট্টগ্রাম ‍রুটে ভয়াবহ জ্যাম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১২ এএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ভয়াবহ জ্যাম। ছবি: সংগৃহীত
expand
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ভয়াবহ জ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ারচর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা অভিমুখী লেনে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক-যাত্রীরা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আষারিয়ারচর ব্রিজ থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও গাড়ি ধীরগতিতে চললেও বেশিরভাগ জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে যানবাহন। এতে মহাসড়কে আটকে পড়া যাত্রীদের অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আষারিয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। দিন দিন গর্তটি বড় হয়ে ওঠায় যেকোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। কাজ চলাকালে ঢাকা অভিমুখী লেনে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় ধীরে ধীরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজ এলাকায় সংস্কারকাজের জন্য সড়কের একটি অংশ ঘিরে রাখা হয়েছে। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে যান চলাচলের জায়গা। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই যানজট ছড়িয়ে পড়ে দাউদকান্দির দিকেও।

দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা দূরপাল্লার বাসের চালক রহিম মোল্লা বলেন, ব্রিজের কাছে এসে গাড়ি একেবারে থেমে যাচ্ছে। কয়েকঘণ্টা ধরে একই জায়গায় পড়ে আছি। সামনে কী কারণে যানজট, সেটাও অনেক সময় বুঝতে পারছি না। যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বিরক্ত হয়ে পড়েছেন।

বাসযাত্রী বলবুল আহমেদ বলেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ অতিক্রম করতে যতটুকু সময় লাগে, তার চেয়ে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। গাড়িতে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষও রয়েছেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় সবাই কষ্ট পাচ্ছেন।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক বাবুল মিয়া বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট সময়ে মালামাল পৌঁছে দিতে হয়। এভাবে কয়েক ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকলে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এতে শুধু চালক-যাত্রী নয়, ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

আরেক ভুক্তভোগী যাত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, রাস্তার সংস্কার অবশ্যই দরকার। ব্রিজে বড় গর্ত থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু কাজ করার সময় আগে থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা করা হলে হয়তো এত দীর্ঘ যানজট তৈরি হতো না।

এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ বলেন, আষারিয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। কাজের কারণে যান চলাচলে কিছুটা ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। কাজ শেষ হলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন