

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০ বাস নারীর জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়কমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মোট ১৩টি রুটে ১৪টি নতুন বাস চালু করা হচ্ছে। ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলবে। ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি রুটের পরিধিও আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি বাস এখন অত্যন্ত জরুরি। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এসব বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের শুধু বাসে ওঠার পর নয়, অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ দিতে হবে। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহণ ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন, সে জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা এক হাজার ২০০-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
নারীদের জন্য চালু করা বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। এই উদ্যোগকে শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সেবাটি ধরে রাখা, টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।


