

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


• অভিযোগ অনিয়মেও দুই যুগেও চেয়ার সরে না
• দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা রুবেলের প্রধান পৃষ্টপোষক তিনি
• আ.লীগের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও নিক্সন
চৌধুরীর আত্মীয় পরিচয়ে দাপট
• সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ প্রমান পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে : বিআরটিএ চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল ১ এর এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের শেষ নেই।
গত বছরেও দুদকে তার বিরুদ্ধে সিএনজি স্ক্র্যাপের অনিয়মে জড়িতদের মাঝে তার নাম ছিল।
সে সময়ই কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ লোপাটের অভিযোগ উঠেছিলো। কিন্তু এতো কিছুর পরও সেই রুহুল আমিন এখনো সেই একই সার্কেলের বহাল তবিয়তে রয়েছে।
এবার নতুন করে তার বিরুদ্ধে দালালদের রামরাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।
এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ প্রায় ২ যুগ যাবত কর্মরত সাবেক হিসাব রক্ষক বর্তমানে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে নতুন পুরাতন লাইসেন্স, মালিকানা বদলী ও রুট পারমিট দিতেন।
খান মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ থাকা সত্বেও তিনি স্বতবিয়তে বহাল আছেন মিরপুর বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো ১ সার্কেলেই।
খান মোহাম্মদ রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের আমলেও সেই সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও আওয়ামী লীগের নেতা নিক্সন চৌধুরীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দাপট দেখাতেন।
যার ফলে তার দুর্নীতির ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। গত বছর ফেব্রুয়ারী মাসে ৪ তারিখে তার বিরুদ্ধে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বর্তমানে তদন্তাধিন রয়েছে।
এরই মধ্যে দুদকে কতিপয় সিএনজি মালিক শ্রমিকদের তলব করা হয়েছে এবং তাদের নিকট থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে এমনকি খান মোহাম্মদ রুহুল আমিনও দুদকে গিয়ে তথ্য দিয়েছেন।
দুদকে তার বিরুদ্ধে দেওয়া সেই অভিযোগের একটি চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিআরটিএ দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা মো. হারুন অর রশিদ রুবেলের প্রধান পৃষ্টপোষক এই রুহুল আমিন।
রুহুল আমিনের সহায়তায় এই রুবেল বিআরটিএ’র গাড়ির মালিকানা বদল, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত লেনদেন থেকে অর্থ হাতিয়ে শূন্য থেকে হয়েছে কয়েক কোটি টাকার মালিক।
করেছেন ঢাকায় ফ্ল্যাট, গাড়ি; এছাড়াও রয়েছে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। মিরপুর বিআরটিএ'র পাশে অনলাইন ব্যাংকিং জমার জন্য শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার নামে একটি দোকান ভাড়া নেয়। সেখানেই চলে দালালদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিআরটিএ দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় বিআরটিএ এখন দালাল আগের মতো দেখা যায় না।
মিরপুরে এখন বেশিরভাগ দালাল থাকে ঔ দোকানের সামনে। এখন সেই দোকানে বসেই প্রতিদিন চলে লাখ লাখ টাকার দেন দরবার।
রুবেলের শাহরাস্তি বিসনেস সেন্টার বিআরটিএ এর পাশে হওয়ায় সারা ঢাকা শহরের দালালরা তার কাছে বিভিন্ন কাজ দেয় এবং এই কাজগুলো রুহুল আমিনের এক ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে রুহুল আমিনকে পৌছে দেওয়া হয় এবং রুহুল আমিন কাজ শেষে করে আবার আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে রুবেলের নিকট পাঠিয়ে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএ এক কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে বলেন, অসাধ্য কাজ সাধ্য করেন রুহুল আমিন।
অনেক ঝামেলার কাজ আছে, যেগুলো তার পদে অন্য সার্কেলের কর্মকর্তা না করলেও এই রুহুল আমিন সেই কাজ করে ফেলেন। তার কাছে বিশেষ এক ক্ষমতা আছে।
ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন এনপিবি নিউজকে বলেন, এই রুহুল আমিনদের খুটির জোর কোথায়? সব আমলেই এসব ‘রুহুল আমিনরা’ মধু খায় বিআরটিএ থেকে। দুই যুগের মতো সময় ধরে এক সার্কেলে কিভাবে থাকেন এক কর্মকর্তা?
তার বিরুদ্ধে আমি নিজে দুদকে অভিযোগ জমা দিয়েছি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সালে পর্যন্ত সিএনজি প্রতিস্থাপনের নামে কোটি কোটি টাকা আত্নসাৎ করেছে বিআরটিএর কিছু কর্মকর্তা ও মালিক সমিতি। আর তাদের সহোযোগী হিসেবে ছিলেন এই রুহুল আমিন। তবুও এই রুহুল আমিন স্বপদে বহাল।
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন পরপর লোক দেখানো অভিযানরে মধ্যে দিয়ে আড়ালে থেকে যায় এসব রুহুল আমিনরা। তাদের কাছেই বন্দি থাকে অনেক সেবা গ্রহীতা। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই দ্রুত এসব কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে বিআরটিএ কে দুর্নীতি মুক্ত করা হোক।
এদিকে অভিযোগের বিষয় ঢাকা মেট্রো সার্কেল ১ এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এই প্রতিবেদকের ফোনে সারা দেয়নি।
সার্বিক বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ এনপিবি নিউজকে বলেন, যে সব কর্মকর্তা একই সার্কেলে বহুদিন ধরে রয়ে গেছেন তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
একই সার্কেলে বেশি দিন থাকার সুযোগ থাকবে না। আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলেছেন, যদি সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ প্রমান পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
