সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চার দিনে তিন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা?

সানমুন আহমেদ
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:১৪ পিএম আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দেশে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ তিন স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মিরপুরের পোশাক কারখানা থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর।

তিনটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, এগুলো নিছক দুর্ঘটনা নাকি কোনো পরিকল্পিত নাশকতার অংশ?

প্রথম ঘটনা ঘটে রাজধানীর মিরপুর শিয়ালবাড়ি এলাকায়। মঙ্গলবার একটি পোশাক কারখানায় আগুন ও কেমিক্যাল বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে।

এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড)-এর একটি কারখানায় দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা ধরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেখানে যেভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেটা ছিল ভয়াবহতা।

এর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় পর রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

১৮ অক্টোবর শনিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া আগুনের ফলে কালো ধোঁয়া উড়ে যায় আকাশে, কিছু ঢাকাগামী ফ্লাইটকে সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়।

নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে কোনো প্রতিবেশি দেশের পরিকল্পিত নাশকতার সম্ভাবনা জড়িত কিনা—এই প্রশ্নও উঠছে।

এরআগে সীমান্ত দিয়ে জাল নোট ও অস্ত্র ঢুকিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের উল্লেখ করেছেন, শুধু জাল টাকা ও অস্ত্র নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ বিভিন্ন দেশে নকল ভিসা তৈরি করে দেশের জনশক্তি বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু ঘটনা ওই দেশের গোয়েন্দা সহায়তায় স্থানীয় চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে, এখন পর্যন্ত এই তিন অগ্নিকাণ্ডেরই সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি, যা ঘটনাগুলোর ধোঁয়াশা আরও বাড়াচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী এনপিবি নিউজকে বলেন, সম্প্রতি সময়ের ঘটনা গুলো উদ্বেগজনক। মিরপুর ও চট্রগ্রামের ঘটনাগুলোর সুত্রপাত এখানো জানা যায়নি। তার মাঝেই আজ আবার বিমান বন্দরে আগুন। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই বিমান বন্দরটি আমাদের দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে সেইভাবে লোকবল দেখা যাচ্ছিলো না শুরুতে। আগুন চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। কোথায় কি আছে সেগুলোই ভালোভাবে কেউ কিছু বলতে পারছে না। তাছাড়া এসব ঘটনায় কাউকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। তবে তদন্ত হলে ঘটনা জানা যাবে বলে জানান তিনি।

আরেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মনিরুজ্জামান জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গুলোতে আগুন লাগা উদ্বেগের বিষয়। তার মাঝে বিমান বন্দরের মতো স্থাপনায় আগুন লাগায় অনেকে ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত আগুন নেভানোর প্রয়োজন। সেই সাথে কিভাবে এই ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো তদন্ত করে বের করা উচিত বলে মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

এদিকে বিভিন্ন স্থানে আগুন স্বৈরাচারের দোসরদের চক্রান্তের অংশ বলে মনে করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এই আগুন লাগার ঘটনাকে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের দোসরদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে না পারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম বড় ব্যর্থতা। যার ফল বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে হবে।

আগুন ঘটনা চক্রান্তের একটি অংশ উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখিনা। এগুলো স্বৈরাচারের দোসরদের দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অংশ। তথাকথিত তদন্ত কমিটির নাটক বাদ দিয়ে এর পিছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হোক।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন