

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিলিপাইন ও আশপাশের অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকায় টানা দুই দিনে কয়েকটি মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও মাঝেমধ্যে অনুভূত হচ্ছে, যা সম্ভাব্য বড় ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ধস নামতে পারে, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হবে।
তাদের মতে, ঝুঁকির বড় কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল নির্মাণ কাঠামো। অনেক ভবনই ভূমিকম্প সহনশীল নকশা ছাড়াই তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গড়ে বহু ভূমিকম্প হলেও বড় মাত্রার ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে কম ঘটে। তবে সেগুলোর তীব্রতা বেশি হলে তা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হতে পারে।
ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ এমন একটি ভূ-অবস্থানে রয়েছে যেখানে সক্রিয় কয়েকটি ফল্ট লাইন রয়েছে। বিশেষ করে ডাউকি ফল্ট, আরাকান সাবডাকশন জোনসহ বিভিন্ন ভূ-চ্যুতি অঞ্চল দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি বাড়িয়ে রেখেছে। ইতিহাসেও দেখা যায়, এই অঞ্চলে অতীতে ৭ থেকে ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের একটি দীর্ঘ চক্র রয়েছে, যা কয়েকশ বছর পরপর ফিরে আসতে পারে। সেই হিসেবে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকলেও ঠিক কবে তা ঘটবে, তা পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, দেশে ৭ বা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৮৬৯ সালে আসামের কাছাড়ে ৭.৫, ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল আর্থকোয়েক ৭.১ (যে ফল্টের ওপর ভিত্তি করে যমুনা সেতুর ডিজাইন করা হয়েছে), ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ এবং ১৯৩০ সালে ধুবড়িতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৫০-২০০ বছরের চক্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প এখন যে কোনো সময় ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আশপাশে বেশ কয়েকটি সক্রিয় চ্যুতি বা ফল্ট লাইন রয়েছে। ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে ইন্ডিয়া বর্ডার পর্যন্ত প্রায় ৭২ কিলোমিটার লম্বা ডাউকি ফল্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্লেট বাউন্ডারি-১ (আরাকান ফল্ট), প্লেট বাউন্ডারি-২ (নোয়াখালী থেকে সিলেট) এবং প্লেট বাউন্ডারি-৩ (সিলেট থেকে কাছাড়) একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে আছে।
মেহেদী আহমেদ আনসারী আরও বলেন, এরকম একটি বিপর্যয় হলে তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আসলে কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। জাইকা এবং সিডিএমপির একটি জরিপে উঠে এসেছে, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। কিন্তু এই ৭২ হাজার ভবন কোনগুলো তা নির্দিষ্ট করা নেই।
তিনি জানান, ঢাকায় মোট বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে ১৫ লাখই ছোট বিল্ডিং, টিনশেড বা বস্তি। যা ভেঙে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা কম। কিন্তু মূল বিপদের কারণ হলো অবশিষ্ট ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবন, যেগুলো ৪ তলার ওপরে। এর মধ্যে আমাদের প্রাথমিক ধারণায় অন্তত ৪০ শতাংশ ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
