বুধবার
২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে শুধু একটি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ঢাকা ও বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। সফরকালে অবকাঠামো, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা–সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে। গত কয়েক বছরে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্বে’ উন্নীত করে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ব্যাপক শুল্ক সুবিধাও দিয়েছে দেশটি। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্প খাতে চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন ইস্যুতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

তবে সম্পর্কের এই ইতিবাচক গতিপথের মাঝেও কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং উন্নয়ন মডেল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি বাংলাদেশকে নিজেদের কৌশলগত বলয়ের মধ্যে রাখতে আগ্রহী। একই সঙ্গে চীনকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা ও বিতর্কও দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করছে।

আরেকটি বড় বিষয় হলো বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল। দেশের একটি অংশ পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের প্রতি বেশি আস্থাশীল হলেও অন্যরা মনে করেন, দ্রুত শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

গ্লোবাল টাইমসের মতে, এসব পার্থক্য দূর করতে উভয় দেশের মধ্যে আরও বেশি সংলাপ, গবেষণা সহযোগিতা এবং নীতিগত যোগাযোগ প্রয়োজন।

সফরের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদন খাত সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। বিশেষ করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশকে একটি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া গ্লোবাল সাউথভিত্তিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক বাণিজ্য কাঠামো এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন উদ্যোগেও দুই দেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের গুরুত্ব শুধু স্বাক্ষরিত চুক্তির সংখ্যায় নয়; বরং বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোন ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে অগ্রাধিকার দেবে, সেই বার্তাও এতে প্রতিফলিত হবে। ফলে সফরটি ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Bosnia-Herz VS Qatar
Scheduled
25 Jun, 01:00 AM
VS
World Cup