

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের জন্য ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের প্রণীত খসড়া বিধিমালা ও আচরণবিধিতে এ সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের নীতিও বহাল রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানো, তা ফেরত সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রশাসনিকভাবে জটিল ও ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন আচরণবিধির খসড়া জনমতের জন্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে।
বর্তমান আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্দিষ্ট শর্তে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর ফলে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরাও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে এমন কোনো বিধান নেই।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কেউ কেউ মনে করেন, প্রবাসী ভোটারদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা তাদের ভোটাধিকারের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন, যাতে দেশের বাইরে অবস্থানরত নাগরিকরাও সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো, বর্তমান আইনি কাঠামো ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে নতুন কোনো ডাকভোট পদ্ধতি চালুর সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আপাতত আলোচনার পর্যায়েই থাকছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনে ভোটের সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই সুযোগ না থাকা সমঅধিকারের প্রশ্নে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।
