বুধবার
১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট

জোরপূর্বক ঠেলে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতীয় মুসলিমদের

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে এক চরম অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাভাষী মুসলিমদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশব্যাক) চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তাদের বাধা দিচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা জিরো লাইনে নারী ও শিশুসহ বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে আটকে থাকছে।

২০২৬ সালের ১ জুন থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পুশব্যাক করার অন্তত ২১টি চেষ্টা রোধ করেছে বিজিবি। এই প্রক্রিয়াগুলোতে শিশুসহ প্রায় ২০০-রও বেশি মানুষকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

গত ৫ জুন পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফ ১০ জনকে পুশব্যাক করার চেষ্টা করলে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার এক ‘যুদ্ধকালীন’ অচলাবস্থা তৈরি হয়। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে খোলা জায়গায় আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের ফেরত নিয়ে যায়।

একইভাবে ঠাকুরগাঁও ও অন্যান্য সীমান্ত এলাকাতেও কয়েকদিন আটকে থাকার পর বেশ কিছু পরিবারকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই সংকট আরও বেড়েছে।

শনাক্ত, বাদ ও বহিষ্কার নীতি:

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনাক্ত, ‘বাদ ও বহিষ্কার’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫,০০০ মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচনের ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই বাদ পড়াটাই এখন সাধারণ মানুষের জন্য গ্রেফতার, আটক ও বহিষ্কারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকের কাছে ভারতের ‘আধার কার্ড’ থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

২০১৯ সালে আসামের নাগরিকত্ব তালিকা (NRC) থেকে ১৯ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মাও বাংলাভাষী মুসলমানদের একইভাবে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনি বাধ্যবাধকতা

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রতি বেশ কিছু আহ্বান জানিয়েছে।

খোলা আকাশের নিচে খাবার, পানি বা চিকিৎসা ছাড়া মানুষকে আটকে রাখা নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

কাউকে বহিষ্কার করার আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, আইনি সাহায্য এবং আপিল করার অধিকার দিতে হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব যাচাই ও হস্তান্তরের আইনি পথ রয়েছে। কিন্তু ভারত সেই নিয়ম না মেনে জোরপূর্বক মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়ার উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো মানুষের জাতীয়তা যাই হোক না কেন, তাকে এভাবে দুই সশস্ত্র বাহিনীর মাঝে খোলা মাঠে ফেলে রাখা যায় না। ভারতের উচিত এই নিষ্ঠুর পুশব্যাক অবিলম্বে বন্ধ করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Congo DR
Scheduled
17 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup