

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে উত্তাল ছিল সারাদেশ। আওয়ামী লীগের শাসনামলের অবসানের দাবিতে রাজপথে নামে ছাত্র-জনতা। আন্দোলন দমাতে সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আহত হন অসংখ্য মানুষ, প্রাণ হারান প্রায় দেড় হাজার। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের।
এই আন্দোলনে আহতদের একজন মানিকগঞ্জের হাফিজুর রহমান। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে রাজপথে নামেন তিনি। ৪ আগস্ট মানিকগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হন হাফিজুর- মাথা, পেট ও পায়ে লাগে গুলি। তাকে প্রথমে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
৫ আগস্ট সরকার পতনের মধ্য দিয়ে দেশ রাজনৈতিকভাবে মুক্ত হলেও, হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা হাফিজুরের জীবনে শুরু হয় আরেক সংগ্রাম। বাবা-মা না থাকায়, আহত হওয়ার পর একমাত্র বোন ও দুলাভাইও তার খোঁজ নেননি। তবে পরিবারহীন এই কিশোরের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পঙ্গু হাসপাতালে প্রায় ১৫-১৬ দিন চিকিৎসার পর তাকে ময়মনসিংহে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে প্রায় এক বছর চিকিৎসা নেন। পরে আবার ঢাকায় ফিরে ভর্তি হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
হাফিজুর রহমান এনপিবি নিউজকে বলেন, “কোনো সংগঠন আমার খোঁজ নেয়নি। আল্লাহ ছাড়া শুধু বিভাগীয় কমিশনার স্যার পাশে ছিলেন। আমার নিজের বোন-দুলাভাই পর্যন্ত খোঁজ নেয়নি, অন্যদের কথা কী বলব?”
তিনি জানান, “পায়ের গুলি বের করা হয়েছে, প্লাস্টিকের রগ বসানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮ বার অপারেশন হয়েছে। এখনও মাথা ও পেটে গুলি রয়ে গেছে, সেগুলো ময়মনসিংহে অপারেশন করে বের করতে হবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সহায়তা না পাওয়ার হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “বিএনপি বা জামায়াত- কারো কাছেই সাহায্য চাইনি। এনসিপির কাছেও না। যেখানে গেছি, মূল্য পাইনি। পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর কারো কাছে যাব না। একবার সারজিস আলম ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকার জন্য তো আন্দোলন করিনি।”
হাফিজুর বলেন, “যখন যেখানে প্রয়োজন হয়েছে, বিভাগীয় কমিশনার স্যারকে জানিয়েছি- তিনি সহযোগিতা করেছেন। পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল, বার্ন ইনস্টিটিউট, এমনকি ময়মনসিংহেও তিনি পাশে ছিলেন। এখনও আছেন।”
কাগজপত্র জটিলতার কারণে এখনো জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের তালিকাভুক্ত হতে পারেননি হাফিজুর। তবে প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিগগিরই তালিকাভুক্ত হবেন। এই প্রক্রিয়ায়ও তাকে সহায়তা করেছেন বিভাগীয় কমিশনার।