

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া। তবে গ্রেপ্তার হলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুদকের আবেদনের পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে বিষয়টি ইন্টারপোলে পাঠানো হয়। পরে তার নামে রেড নোটিশ জারি হয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে।
তবে অনেকের ধারণার বিপরীতে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। এটি মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও সাময়িকভাবে আটক করার অনুরোধ। ফলে রেড নোটিশের ভিত্তিতে কাউকে আটক করা গেলেও তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আদালতের পরোয়ানা, মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অভিযোগসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। এরপর সেসব নথি যাচাই করে দেশটির আদালত সিদ্ধান্ত নেবে প্রত্যর্পণের আইনি শর্ত পূরণ হয়েছে কি না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ‘ডুয়াল ক্রিমিন্যালিটি’। অর্থাৎ যে অপরাধের অভিযোগে কাউকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে, সেটি অনুরোধকারী দেশ এবং যে দেশে তিনি অবস্থান করছেন—উভয় দেশের আইনেই অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে।
বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে অভিযোগগুলো দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারসংক্রান্ত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব অপরাধ সাধারণত গুরুতর আর্থিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আইনি ভিত্তির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সব সময় সরল পথে এগোয় না। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে আপত্তি জানাতে পারেন, উচ্চ আদালতে যেতে পারেন কিংবা বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করতে পারেন। ফলে গ্রেপ্তারের খবর গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত হওয়ার সমার্থক হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। অতীতে এই চুক্তির আওতায় কয়েকজন আসামিকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গেলে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত আইনি প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তির ওপর।
