

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র ঈদুল আজহার অনাবিল আনন্দ ও উৎসবের আবহ সমাজের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকা বন্দীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। চার দেয়ালের বন্দিজীবনেও যাতে উৎসবের কোনো ঘাটতি না থাকে, সেজন্য দেশের সবকটি কারাগারে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বন্দীদের জন্য উন্নত ও বিশেষ খাবার পরিবেশন, ঈদ জামাত, তিন দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পরিবারের সাথে অতিরিক্ত সময় যোগাযোগের সুযোগসহ নানামুখী আয়োজনে মুখরিত এখন কারা প্রাঙ্গণ।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকাল থেকেই বন্দীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। উৎসবের আমেজে সকালে তাদের পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পায়েস ও মুড়ি। দুপুরের মূল আকর্ষণে মেন্যুতে ছিল সুগন্ধি পোলাও, গরু বা খাসির মাংস, জিভে জল আনা মুরগির রোস্ট, মিষ্টি চকোলেট-চমচম, কোল্ড ড্রিংকস এবং পান-সুপারি ও সালাদ। এরপর রাতের খাবারে থাকছে সাদা ভাত, মচমচে রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম। এছাড়া কারাগারে থাকা বন্দীদের শিশু সন্তান এবং দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জুস কর্নার, চিপস ও চকলেটের বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছে।
খাবারের পাশাপাশি বন্দীদের মানসিক প্রশান্তির জন্য বিনোদনেরও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেশের প্রতিটি কারাগার প্রাঙ্গণে সকাল ৮টায় বন্দীদের অংশগ্রহণে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় বন্দীদেরই অংশগ্রহণে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের অংশ হিসেবে ঈদের দ্বিতীয় দিনে বন্দীদের মাঝে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হবে।
এবারের ঈদে বন্দীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, উৎসবের এই তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন তারা তাদের পরিবারের পাঠানো সুস্বাদু ঘরোয়া খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একই সাথে যেকোনো একদিন বিশেষ ব্যবস্থায় ‘আনডিউ সাক্ষাৎ’ বা সরাসরি দেখা করা এবং ফোনে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত কথা বলার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই মানবিক সুবিধাটি শুধুমাত্র বন্দীদের বৈধ ও নিজ পরিবারের সদস্যদের জন্যই প্রযোজ্য হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে থেকেও বন্দীরা যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন এবং উৎসবের আবহ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। প্রতিটি কারাগার তাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে বন্দীদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছে জানিয়েছেন কারা অধিদপ্তরের এআইজি (প্রিজন) মো. জান্নাত উল ফরহাদ।
কারা কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বন্দী ও তাদের স্বজনরা। তারা বলছেন, এই আয়োজন বন্দীদের মানসিক জড়তা কাটিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনুপ্রেরণা জোগাবে।