

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বের শিক্ষা মন্ত্রীদের সবচেয়ে বড় বার্ষিক সম্মেলন ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
এসময় তিনি মুখস্থ বিদ্যা নয়, মেধা ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর তার সরকার জোর দিয়েছে বলে জানান। ফোরামে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের শিক্ষামন্ত্রীরা অংশ নিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শিবলী সাদিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (২০ মে) ফোরামের প্লেনারি সেশনে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ঘাটতি কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার দোলাচলের পথ পেরিয়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। আর এই গণরায় শিক্ষা খাতে একটি অর্থবহ ও আমূল পরিবর্তন আনার স্পষ্ট দায়িত্ব বহন করে।
শিক্ষা মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন: "আমাদের জনগণের পক্ষ থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তাটি হলো—শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিবর্তন কেবল শিক্ষিত করার জন্য নয়, আমাদের তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে তোলার জন্য। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাস করা নয়; বরং দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের অধিকারী হতে হবে। শিক্ষাকে চাকরি, উদ্যোক্তা তৈরি, উদ্ভাবন এবং মর্যাদার পথ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।"
মন্ত্রী মুখস্থ বিদ্যার সনাতন পদ্ধতি থেকে সরে এসে "আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা" -র ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের মাঝে কৌতুহল, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং মানসিক শক্তি তৈরি করা।
এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কিছু মূল দিক তিনি তুলে ধরেন:
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষ করতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।
মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষা: মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সামাজিক সহায়তা: মিড-ডে মিল (দুপুরের খাবার) কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, জুতো ও স্কুল ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
বাজেট বৃদ্ধি: শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে জিডিপির (GDP) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষক এবং প্রযুক্তির সমন্বয় শিক্ষকদের "পরিবর্তনের অগ্রদূত" হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্ত্রী সরকারের "ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব" (One Teacher, One Tab) উদ্যোগের কথা জানান, যার মাধ্যমে শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস তুলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সহ আধুনিক প্রযুক্তিকে মূলত শিক্ষকদের সহায়তায় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়া উন্নত করতে ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তি যেন সমাজ ও শিক্ষার বৈষম্য না বাড়িয়ে, বরং তা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে—সেটাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
