

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সড়কের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ, আইন অমান্যকারী পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, অতিরিক্ত আদায় ও শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ এবং জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবিতে শ্রমিক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।
বুধবার (২০ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. ইব্রাহিম সর্দার, কবির হোসেন মনজু, আকরাম হোসেন মন্টু, বেলাল তালুকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের সময়কাল স্বল্প হওয়ায় এ মুহূর্তে সমালোচনার পরিবর্তে সহযোগিতার মনোভাব প্রয়োজন। তবে বিগত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সড়কে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। “একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না”—এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিরাপদ সড়কের কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০০৭ সালে প্রণীত নীতিমালা উপেক্ষা করে অটোরিকশা মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংশোধনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ বিষয়ে পূর্বে প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিম্নলিখিত দাবীসমূহ তুলে ধরা হয়ঃ
১। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত কল্পে সড়কে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ করে আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ২। পরিবহন শ্রমিকসহ সর্বস্তরের শ্রমিকদের বাচারমত মজুরী নিশ্চিত কল্পে জাতীয় নূন্যতম মজুরী ৩০,০০০/- টাকা ঘোষণা করতে হবে। পরিবহন শিল্পের জন্য আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে। ৩। সম্প্রতি পাশকৃত শ্রম আইনের শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী কালাকানুন সংশোধন করে মালিক শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষণ করে এমন গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ৪। কৃষকদের ন্যায় শ্রমিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরন করে ন্যায্য মূল্যে নিত্যপন্য সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। ৫। পরিবহন মালিকদের মালিক ও ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ, দুর্নীতি ও জুলুম বন্ধ করে শ্রমিকের শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হবে।
