

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর বর্বরোচিত হামলা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে এনডিএফ।
রোববার (১২ মে) রাজধানী শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ চিকিৎসকেরা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, চিকিৎসকরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগীকে দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এরপরেও দেশজুড়ে চিকিৎসকদের ওপর একের পর এক বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ সময় বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই বর্বরোচিত ও সুপরিকল্পিত হামলা শুধু ডা. নাসিরের ওপর নয়, বরং এটি পুরো চিকিৎসক সমাজ এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত। যারা এই হামলার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায় এবং চিকিৎসকদের সেবা দানে বাধা দিচ্ছে, তাদের শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না; দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনি দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের অভিভাবক। এই হামলা আপনার ওপরও হয়েছে। আমরা আশা করব, কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আপনি সার্বিক ব্যবস্থা নেবেন। চিকিৎসকরা যেন নির্বিঘ্নে সেবা দিতে পারেন, সেই নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন। আজ যদি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে আগামী দিনে কোনো জটিল রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চিকিৎসকরা ভয় পাবেন। এতে সাধারণ মানুষ ও দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এনডিএফ সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা এভাবে ঘন ঘন হামলার শিকার হন না। কোনো অনুসন্ধান ছাড়াই ঢালাওভাবে ‘ডাক্তারের অবহেলায় মৃত্যু’ বলে নিউজ করে দেওয়া কাম্য নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যেত, কিন্তু এভাবে অমানুষের মতো আক্রমণ করা নজিরবিহীন।
তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত ডা. নাসিরকে দেখার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান, তবে একইসঙ্গে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা এবং অনতিবিলম্বে ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের জোর দাবি জানান। এরপরে যদি আর কোনো চিকিৎসক লাঞ্ছিত হন, তবে চিকিৎসক সমাজ আর ঘরে বসে থাকবে না। দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন এনডিএফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ ও সহ-সভাপতি ডা. মো. আতিয়ার রহমান। এছাড়াও জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, অফিস সম্পাদক ডাক্তার এ কে এম জিয়াউল হকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।