

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা নগরীতে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব। ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ভাড়া বাসায় ফেরার পথে ৪ পেশাদার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন। পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুটা এগিয়ে নামেন তিনি। এরপর বাসস্ট্যান্ডে আসতে সিএনজিতে ওঠেন। এই সিএনজিতেই ছিলেন ৪ ছিনতাইকারী। সামনে চালকসহ দুজন। পেছনে দুজন।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্বে দেওয়া র্যাব-১১-এর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সোমবার (২৭ এপ্রিল) জানা গেছে ছিনতাইকারীদের ৪ জন সরাসরি জড়িত, বাকি একজনের কাছ থেকে বুলেটের ব্যবহৃত ব্যাগ, মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ৫ জনই রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইকারীরা জানিয়েছে, রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে বেশ কিছুটা পথ সামনে নামায় স্ট্যান্ডে ফিরতে সিএনজিতে ওঠেন। চালক তাকে বলে, ‘আর একজন হলেই ছেড়ে দেব।’ এ সময় তারা বুলেটকে পাশে বসায়।
অভিযান এবং জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ছুঁয়ে যায় বুলেটের ঘটনা। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার স্ত্রী বারবার বলছিল এটা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত গ্রেপ্তার করো ওদের। আমি নিজেও ঘুমাতে পারিনি এই কদিন। আমরা সবাই একযোগে অ্যাফোর্ট দিয়েছি। এই অভিযানে ৫ জনকে শনাক্ত করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে।’
ওই কর্মকর্তার ধারণা, বুলেটের চোখে ঘুম ছিল। ছিনতাইকারীদের হাতে অস্ত্র দেখে ঘাবড়ে যান। হয়তো ধস্তাধস্তিও করেছেন।
নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।
ছিনতাই শেষে চলন্ত সিএনজি থেকে বুলেটকে ফেলে দেয় ঘাতকরা। বুলেট মহাসড়কে পড়ার সময় মাথায় আঘাত পান। এরপর সকালে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সারসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১১ এপ্রিল সেখানে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোনে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
মন্তব্য করুন
