সোমবার
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ফেরত চাইলো সাবেক পরিচালকরা

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ব্যাংক রেজ্যুলশনের দোহাই দিয়ে এবার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব ফেরত চাইলো ব্যাংকটির সাবেক পরিচালকরা। আর্থিক দুর্দশাগ্রস্ত বেসরকারি খাতের ৫ ব্যাংক একীভূত করে গঠন করা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে এসআইবিএলকে আলাদা করে পূনরায় শেয়ারধারক হতে আবেদন করেছেন ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে এ আবেদন করেন তিনি। বেসরকারি মালিকানা থাকা অবস্থায় এসআইবিলের সবশেষ পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন তিনি।

আবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া সবশেষ পর্ষদে থাকা এসআইবিএলের পরিচালক জাবেদুল আলম চৌধুরী এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়ার পরে ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী আমরা আবেদন করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাবেক পরিচালক পর্ষদের পক্ষ থেকে রেজাউল হক আবেদন করেছেন। আমরা সবাই তাতে সম্মতি দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আবেদন সংশ্লিষ্ঠ বিভাগে গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। সেখানে কি করনীয় হবে তা পর্যালোচনা শেষে জানানো হবে। এখনই বলার মত কিছু হয়নি।’

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের ২১ তারিখে গঠন হওয়া ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ থেকে চার মাস পরে একীভূত ব্যাংক থেকে প্রথম ব্যাংক হিসেবে বের করার আবেদন এলো।

অর্থপাচার, খেলাপি ঋণের হার বেড়ে গিয়ে আর্থিক সংকটে জেরবার হওয়া শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক(এসআইবিএল) একীভূত করে নতুন একটি ব্যাংক গঠন করতে ব্যাংকেগুলোতে প্রশাসক দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের ৫ নভেম্বর একীভূত করার আগে এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সেদিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ৫ ব্যাংককে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করে চিঠি দেয়।

সেদিন শেয়ার শূন্য করে তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছিলেন, ‘সব ব্যাংকের শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ হিসাব করলে ৩৫০ টাকা, ৪২০ টাকা করে নেগেটিভ হয়ে গেছে। আমরা তো শেয়ারহোল্ডারদের কাছে উল্টো টাকা দাবি করছি না।’

তিনি আরো বলেন,‘আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডার মানেই শেয়ারহোল্ডার। তাদের দায় নিতে হবে। যেহেতু পুঁজি নেগেটিভ তাই সব শেয়ার শূন্য হবে।’

আলোচিত পাঁচ ব্যাংকই পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ করতে হলে বিনিয়োগকারীদের সভা ডেকে অনুমতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কোনো মতামত নেওয়া হচ্ছে না।

ভবিষ্যতে কোনো বিনিয়োগকারী আদালতে গেলে আইনি জটিলতা কিভাবে নিরসন হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আদালতের ব্যাপারে আদালত ডিসাইড করবে। সেটার ব্যাপারে আমি কোন জাজমেন্ট দিব না। আমি যেটুকু বলবো সেটা হচ্ছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক পরিচালনার যে আইন আছে সেটা একটা নন ব্যাংকের পরিচালনার মত না।’

এরপরই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয় বিএসইসি। ব্যাংকগুলো এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হয়ে আছে।

প্রশাসক বসানোর পরে ৫ ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠন করতে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর তফসিলি ব্যাংক হিসেবে আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) দেওয়ার ২১ দিন পর পরের মাসের ২১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে।

রাষ্ট্রায়ত্ব এ ব্যাংকটির লাইসেন্স গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব আজিমুদ্দিন বিশ্বাস ও যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ।

অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে থাকা আহসান এইচ মনসুর লাইসেন্স হস্তান্তর করেন বলে সে সময়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন