

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে সরকার। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে মোট ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. আব্দুল মালিকের দেওয়া নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
নোটিশে সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বঞ্চিত হয়েছেন এবং অসাধু ব্যক্তিরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিয়েছেন। তিনি বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় এ ধরনের অনিয়ম বেশি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির গর্ব, তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি অনৈতিকভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলেই সংশ্লিষ্টদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের অধীনে গঠিত উপকমিটি নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে প্রমাণ মিললে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ত্যাগ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এছাড়া প্রবাসে থাকা যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনো ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাদের দ্রুত তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে তিনি শিগগিরই সিলেটের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেবেন।
মন্তব্য করুন
