

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা। বর্তমানে দেশে কত পরিমাণ তেল রয়েছে এবং তা দিয়ে কতদিন চাহিদা মেটানো সম্ভব -এ প্রশ্নবারবার সামনে আসছে।
সরকারের দাবি জ্বালানি তেলের কোনো সংকট। তবে ‘তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে’-এমন আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছেযানবাহনেরদীর্ঘসারি। ইতোমধ্যেদেশজুড়ে তৈরি হয়েছেঅস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা।
তেলের মজুত কত, চলবে কয়দিন?
বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত কত এবং তা দিয়ে কতদিন চাহিদা মেটানো যাবে—এ নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। এছাড়া মজুত আছে ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ডিজেলের গড় নিয়মিত চাহিদা ১২ হাজার মেট্রিক টনের মতো। অর্থাৎ মজুত থাকা ডিজেলে প্রায় ১১ দিনের মতো চলবে।
তার মানে এই নয় যে, জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে শূন্য হয়ে যাবে। এই সময়ে নতুন করে আমদানি করা জ্বালানি তেলের চালান দেশে পৌঁছালে আবারও এই মজুত বাড়বে।যেমন সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এবং মার্চ মাসে ভারত থেকে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।
এদিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, এই মুহূর্তে মাসভিত্তিক চাহিদা পূরণেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। গত বছরের এপ্রিলে দেশে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়েছিল এই বছরের এপ্রিলেও একই পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডিজেলে কোনো সংকট নেই, বরং পাচারের শঙ্কা থাকতে পারে, যা সরকার বিবেচনায় রেখেছে সীমান্তে নির্দেশনা দেয়া আছে।
জ্বালানি মজুতের বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত থাকা উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা না থাকায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্টোরেজ বা সংরক্ষণ সক্ষমতা কম হওয়ায় আমরা সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ দিনের বেশি তেল মজুত করে রাখতে পারি না।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
মন্তব্য করুন
