

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে তারা প্রাণ হারিয়েছেন।
তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের চারজনসহ তিন উপজেলার ১০ জন রয়েছেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক উমেদ আলী জানান, তাঁর ভাগনে নুরুজ্জামান সরদার ময়না এ ঘটনায় মারা গেছেন। একই গ্রামের রোহান আহমেদ জানিয়েছেন, তিনিও একই বোটে ছিলেন। তাঁর চোখের সামনে এই চারজনসহ অন্যদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন, দোয়ারাবাজারের একজন ও জগন্নাথপুরের পাঁচজন রয়েছেন বলে স্থানীয় নানা সূত্রে জানা গেছে। দিরাই উপজেলার চারজন হলেন উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও রনারচর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।
দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুরের চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান ও ইছগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত মানব পাচার চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
এএফপি জানায়, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় একটি রাবারের নৌকায় সমুদ্রে ভাসছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। তবে ছয় দিন ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে যায় নৌযানটি। এতে নৌকায় অভুক্ত থাকা ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানায়, ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী, এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। পরে কোস্টগার্ড এএফপিকে জানায়, তাতে ২১ বাংলাদেশি, চার দক্ষিণ সুদানি এবং একজন শাদের নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা মানব পাচারকারীদের একজনের নির্দেশে মরদেহ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া দুজনকে ক্রিটের হেরাকলিয়নের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুই দক্ষিণ সুদানি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের পাচারকারী বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
