

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা উঠেছে- রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কি তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন? একসময় তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। সে সময় দেশজুড়ে নির্বাচনকে ঘিরে ছিল তীব্র উত্তেজনা, নানা জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।
তৎকালীন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলে ধারণা তৈরি হয়েছিল, জামায়াতে ইসলামী অপ্রত্যাশিতভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইঙ্গিতও দেন, যা রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের জন্ম দেয়।
তবে নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির জয় পরিস্থিতিকে পাল্টে দেয়। দলটির নেতারা বলছেন, এ ফলাফল তাদের প্রত্যাশার মধ্যেই ছিল। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মনোনয়ন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো না থাকলে আরও কিছু আসনে জয় আসতে পারত বলেও তাদের দাবি।
নির্বাচনের পর বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এখন অপেক্ষাকৃত স্বস্তিকর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন, সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং বঙ্গভবনে নিয়মিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় তাকে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। এমনকি তাকে অপসারণের চেষ্টার কথাও বিভিন্ন মহলে শোনা গেছে। তবে সে সময় বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং রাষ্ট্রপতি অপসারণে সমর্থন দেয়নি- এমনটাই জানা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি রাষ্ট্রপতির অবস্থানকে স্থিতিশীল করেছে। নতুন করে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়েও এখন পর্যন্ত বড় কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। ক্ষমতাসীন মহল আপাতত সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকেই জোর দিচ্ছে।
সার্বিকভাবে, আগের ঘোষণার পরও রাষ্ট্রপতি তার সিদ্ধান্তে অনড় আছেন কি না-তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
