বৃহস্পতিবার
১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল ৯ মাসের মধ্যে চালুর আশা প্রতিমন্ত্রীর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে টার্মিনালটি চালু করতে প্রায় ৬ থেকে ৯ মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি চালু করতে অন্তত কয়েক মাস সময় লাগবে। তার ভাষায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৯ মাসের মধ্যেই টার্মিনালটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশে পর্যটন খাতে চীনের বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল, তবে সেই চুক্তির বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি হয়নি। সেই বিষয়গুলো নিয়েই মূলত নতুন করে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, চীনের কিছু বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের পর্যটন খাতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে তারা একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করতে চান। কীভাবে এই সৈকতকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আরও উপযোগী করে তোলা যায়—সেই বিষয়েই প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বিমান চলাচল বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সপ্তাহে ১২টি ফ্লাইট চলাচল করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। চীন এ সংখ্যা আরও বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট চালুর অনুমতি চেয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন ফ্লাইটের মধ্যে দুটি গুয়াংজু এবং একটি বেইজিং রুটে চালুর প্রস্তাব রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আবেদন করার জন্য চীনকে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি পর্যটন ও বিনিয়োগ সহযোগিতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে অন্যান্য সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলে কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সেগুলোর বাস্তবায়ন এগোয়নি। এবার সেসব বিষয় আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কক্সবাজারে পর্যটন সুবিধা উন্নয়নের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে চীনকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর সেটি পর্যালোচনা করে দেখা হবে। বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হলে সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন