শনিবার
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হঠাৎই আলোচনায় পুলিশ হত্যার বিচার, নেট দুনিয়ায় বিতর্ক

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

২০২৪ সালের ছাত্রজনতার আন্দোলনে হওয়া সহিংসতায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অনেক শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ হতাহত হওয়ার সাথে সাথে পুলিশের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনা ঘটেছিল।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছিল, ৪৪ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও এই সংখ্যা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।

পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পুলিশ হত্যার বিচারের দাবি তোলা হলেও তেমন কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে ১২ ফেব্রিয়ারি ত্রয়দশদ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর ফের আলোচনা শুরু হয়ে এই বিষয়ে। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশ হত্যার বিচার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সেই আলোচনায় আরও জো পেয়েছে।

যদিও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর আগেই জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছিল, যা রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন। এর মাধ্যমে আপাতত, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি প্রদান করা হয়েছে।

ঘরে-বাইরে, পাড়া-মহল্লা কিংবা চায়ের আড্ডার মধ্যে তো বটেই পুলিশ হত্যার বিচার ইস্যু এখন নেট দুনিয়াও ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফেসবুক-ইউটিউবসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশি পোস্ট দেখা যাচ্ছে। যেখানে, শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ি-রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে অনেকেই তার মন্তব্য করছেন। এমনকি অনেক পুলিশ সদস্যরাও তাদের সহকর্মীদের হত্যার বিচারে দাবি তুলছেন।

মনজুর আলম মজুমদার নামে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্টে লিখেছেন- "পুলিশ হত্যার বিচার হবে শুনে অনেকের ঘুম হারাম,গলা শুকিয়ে যাচ্ছে কথা বলতে পারতেছে না ,আরে ভাই শুনে রাখেন ফৌজদারি হত্যা ২০বছর পর হলেও এই হত্যার বিচর হবে, ইনশাআল্লাহ, তখন পালানোর জয়গা খুজে পাবেন না, বিচার হবেই ইনশাআল্লাহ।

ওই পোস্ট শেয়ার দিয়ে আবার জামাল রূহানী নামের এক গণমাধ্যমকর্মী লিখেছেন- 'গণহত্যা, শিশু হত্যা, সাংবাদিক হত্যা, গুম, ক্রসফায়ারের বিচার হতে হবে সবার আগে। এসব আগে হয়েছে। জনগণ এমনিতেই আইন হাতে তুলে নেয়নি। আমরা সচেতন মানুষরা প্রটেকশন না দিলে, একটা থানাও অক্ষত রাখা যেত না। সুতরাং, অপরাধ স্বীকার করে কাজে মন দিন, প্লিজ। সবকিছু ডকুমেন্টেড। খোদা হাফেজ।

পুলিশের এএসআই মনজুরের ছবি-ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে মেহেদী হাসান ফাহিম নামে এক ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টে লেখা হয়- এখনো ২ বছর হয় নাই বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ২ হাজার নাগরিককে বিনা অপরাধে পুলিশ লীগ এবং আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা পাখির মতো গুলি করে মগজ ভেদ করে হত্যা করেছে। আজো এদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি জুলাই শহীদদের রক্তের ঘ্রাণ ভুলতে না পেরে চিৎকার করছে। জুলাই যুদ্ধে পুলিশ হত্যা ছিলো একটি ইবাদত। যে ইবাদত আদায় না করলে পুলিশ সন্ত্রাসীরা আরো কতো হাজার নাগরিককে হত্যা করতো তা খোদাতায়ালা জানেন। মানুষ হত্যার বিপরীতে এই পুলিশ সন্ত্রাসীরা ভেবেছিলো জুলাই যোদ্ধারা তাদের মিষ্টি পায়েস খাইয়ে আপ্যায়ন করবে। এদের কথাবার্তা শুনে সেটাই মনে হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এই সন্ত্রাসীদের কথা বলার সাহস হয়নি।

পোস্টে আরও লেখা হয়- যখনি বিএনপি ক্ষমতায় আসলো এদের পুলিশ হত্যার বিচারের চেতনাদন্ড দাঁড়িয়ে গেলো। এই লোকটি চট্টগ্রাম ডবলমুরিং থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য। তিনি পুলিশ হত্যার বিচার চান। এবং জুলাই আন্দোলনকারীদের প্রকাশ্যে ফেসবুক পোস্টে হুমকি দিচ্ছেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের, শাহরাস্তিতে। নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি ভাইয়ের পাশের গ্রামে তার বাড়ি। যদি কেউ তই জুলাই সন্ত্রাসীটিকে চিনে থাকেন তাহলে তার বাবা মা এবং স্ত্রীকে জিগ্যেস করুন জুলাই সন্ত্রাসী পুলিশ হত্যার বিচার চান, নাকি ২ হাজার নিরীহ নাগরিকদের গুলি করে হত্যার অপরাধে বিচার চান আপনাদের এই ছেলের বিরুদ্ধে।

এদিকে, জাওয়াদুল কাইফ নামে এক পুলিশ সদস্য ফেসবুকে লিখেছেন- 'পুলিশ হত্যার বিচারের কথা উঠলেই যাদের অস্থিরতা বাড়ে, তাদের ভয়ই অনেক কিছু প্রকাশ করে। ন্যায়বিচার কেবল অপরাধীকেই অস্বস্তিতে ফেলে।

স্বপন আহমেদ নামে এক ফিল্ম ডিরেক্টর তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন- পুলিশ হত্যা কোনোভাবেই মীমাংসার বিষয় নয়; এটি আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। জুলাই–আগস্টে নিহত সকল পুলিশ সদস্যের হত্যার সুষ্ঠু বিচার তাদের ন্যায্য অধিকার। আত্মস্বীকৃত খুনিসহ সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও লিখেছেন- পুলিশ নিহতদের পরিবাররা এ ব্যাপারে গভীর ক্ষোভ ও বেদনায় আছে। তারা বলছেন, তাদের স্বজনদের হত্যার ঘটনা সহজভাবে উপেক্ষা করা যাবে না। প্রত্যেক নিহত অফিসারের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। পরিবারগুলোর আন্দোলন ও প্রতিবাদ থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আইন ও ন্যায়বিচারই একমাত্র পথ যা তাদের ক্ষতিপূরণ ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X