

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সরকারি বাসা বরাদ্দের প্রক্রিয়াও শেষ করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ভবনটি ছেড়ে দেবেন। পরবর্তী সংস্কারকাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য বিকল্প স্থান বিবেচনা করা হলেও সময়স্বল্পতাসহ নানা কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজস্ব বাসভবন থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, আসন্ন রমজানে ইফতার আয়োজন এবং ঈদুল ফিতরে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সে লক্ষ্যে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রায় সোয়া তিন একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়ি বর্তমানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা ব্যবহার করছেন। তিনি সরে গেলে ভবন দুটি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভবনটিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার এটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে সেখানে জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের সুযোগ নেই।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে গত বছরের ৭ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ছয় সদস্যের এই কমিটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনে যমুনা ও হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িকে সমন্বিত পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য উপযুক্ত বলে সুপারিশ করে।
মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দ
রাজধানীর হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকাগুলো ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব এলাকায় অবস্থিত বাংলোবাড়িগুলো থেকে সাবেক উপদেষ্টারা সরে যেতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ বাসা খালি হয়েছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য বাসা বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষে ঈদুল ফিতরের পর তাঁরা নতুন বাসভবনে উঠতে পারবেন।
বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন-
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মিন্টো রোডের ৩৩ নম্বর বাংলোবাড়িতেই অবস্থান অব্যাহত রাখছেন। অন্যদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী–কে গুলশানে এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম–কে ধানমন্ডিতে সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডে অবস্থিত মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে ফ্ল্যাট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখানে তিনটি দশতলা ভবনে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
মন্তব্য করুন

