

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এ সরকার যতটা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে, বাস্তবে উন্নয়ন বা সংস্কার ততটা হয়নি বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘টিআইবির লোকজন সবকিছু চোখে দেখতে পারে না। তাদের তো দিব্যদৃষ্টি নেই বা ভালো দৃষ্টিও নেই।’
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘টিআইবি দেখতে চাইলেও দেখতে পারে না অনেক কিছু। এত কিছু, শুধু আপনি রিফর্মের আইন-টাইন তো দেখবেন না। কতগুলো প্রসেস সিমপ্লিফাই করেছি, আপনারা জানেন? আগে আপনার বাইরের ওয়েজ স্কিম পারমিশন নিতে হতো, আমরা বলছি না অটোমেটিক হবে। এগুলো আপনারা দেখেন না কেন, কি কি করেছি আমরা’।
আপনি তো আগে টিআইবির প্রশংসা করতেন। ক্ষমতায় গেলে সবাই টিআইবিকে বাঁকা চোখে দেখে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘না না টিআইবির প্রশংসা, এখনো কিন্তু আমি বদনাম করছি না। বাট আমি বলি যেগুলো ফান্ডামেন্টাল জিনিস, তোমরা একটু দেখো। আর না দেখার ইচ্ছা থাকলে তো অনেক কিছু করা যায়। আমাকে কোনোদিন দেখছেন বাইরে থাকতে আলতু-ফালতু কথাবার্তা বলে ক্রিটিসাইজ করেছি। আমি সবসময় কিন্তু বেসিক জিনিসের ওপর কথা বলেছি’।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান আগে সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘শোনেন তাদের এক্সপেক্টেশন ডেফিনেটলি আছে মানুষের। আমরা ভাবছিলাম যে সংস্কারটি সম্পন্ন করবো, কিন্তু তা করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে কাজ করলে ফল পাওয়া যায়। আমি নিজে ভেতরে থেকে দেখেছি প্রক্রিয়ায় অনেক গলদ রয়েছে। তারপরও অর্থ মন্ত্রণালয়ে আমার মাধ্যমে অনেক কিছু সমাধান হয়েছে। অর্থসচিবসহ সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমি অবিলম্বে সমাধান দিই, কিন্তু অন্যান্যরা পারছে না। তাই তাদের মধ্যে অনেক হতাশা রয়েছে।’
তিনি বলেন, আমি তো সিভিল সার্ভিসে ছিলাম, আমি ট্রেন হয়েছি। আমি জানি কীভাবে কী করতে হয়। সবার তো ওটা জান নেই। সহযোগিতা না পেলে কিন্তু ডিফিকাল্ট। আমি ফ্র্যাঙ্কলি বলি বাংলাদেশের মতো জায়গাটায় কাজ করা রিয়েলি ডিফিকাল্ট। এখানে প্রসেসগুলো এত কমপ্লিকেটেড, এত বেশি ইন্টারভিন প্রবলেম, এটা জট ছাড়ানোর মতো।
এটা কি আমলাতান্ত্রিক? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ডেফিনেটলি আমলাতান্ত্রিক একটা পার্ট। তারপর আছে সিস্টেমটা যারা করেছে, আইনগুলো যারা করেছে, তারাও ঠিক আইনগুলো ভালোভাবে করেনি। আমার সময় ব্যাংকে দুইজন না তিনজন ছিল (এক পরিবার থেকে পরিচালক), হঠাৎ করে পরের মন্ত্রী এসে ছয়জন না কয়জন করে দিল। এগুলো তো উল্টো দিকে যাওয়া। সামনের দিকে যাবেন কি, পেছনে চলে আসছে।
দেড় বছর দায়িত্বে থেকে অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে আপনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কোন জায়গায় রেখে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি মনে করি একটা সন্তোষজনক জায়গায়। সামনে যে গভর্নমেন্ট নেবে তাদের যেন তেমন কোনো অসুবিধা না হয়।
সর্বোচ্চ ঋণ করেছে এ সরকার। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলে সালেহউদ্দিন বলেন, সর্বোচ্চ ঋণ করেছি, সর্বোচ্চ ঋণ আমি শোধও দিয়েছি। ৬ বিলিয়ন ডলার শোধ দিয়েছি। যে ঋণটা আমি ফেরত দিচ্ছি, আমার কাজগুলি করতে হবে না, পাবলিক সেক্টরে।
উন্নয়ন তো আগের মতো হয়নি? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন পাল্টা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কাজ থেমে গেছে, কারণ আমরা আগের মতো কর্ণফুলি টানেল প্রকল্পের জন্য ৮০০ কোটি টাকা ব্যবহার করিনি।’
তাহলে এত লোন করতে হলো কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘লোন নিতে হয়েছে কারণ আগের যে প্রকল্পগুলো ছিল, সেগুলো আমরা মানা করিনি।’
অর্থনীতি সন্তোষজনক বলছেন, কিন্তু বেকারত্ব তো বেড়ে গেছে। একজন সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘কর্মসংস্থান আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আমরা এমপ্লয়মেন্ট বাড়াতে পারিনি, কারণ তার জন্য প্রয়োজন ছিল ছোট ও মাঝারি শিল্প (স্মল ও মিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রি) গঠন। কিন্তু সেখানে আবার আমাদের টাকা-পয়সা তো ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করেছে, কিন্তু বড় বড় ফ্যাক্টরিতে লেবার ইনটেনসিটি কম। এ ব্যাপারে আরও অনেক সমস্যা রয়েছে।’
মন্তব্য করুন

