বৃহস্পতিবার
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হলে কী করবেন?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand

মাসিক বা পিরিয়ডের তারিখ এক-দুই সপ্তাহ এদিক-সেদিক হওয়া অনেক সময় স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার পর হঠাৎ কয়েক মাস বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এর পেছনে হরমোনের পরিবর্তন থেকে শুরু করে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণ থাকতে পারে।

পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ-

১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: থাইরয়েডসহ বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

২. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS): পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার অন্যতম পরিচিত কারণ। এ ক্ষেত্রে ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ বা অতিরিক্ত লোমের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৩. ওজনের পরিবর্তন: অতিরিক্ত ওজন, অপুষ্টি, খুব কম খাওয়া কিংবা হঠাৎ ওজন কমে গেলেও পিরিয়ড বন্ধ হতে পারে।

৪. অতিরিক্ত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ: অতিরিক্ত শরীরচর্চা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা হতাশার প্রভাবেও পিরিয়ডের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হতে পারে।

৫. ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি: কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতির কারণেও পিরিয়ড সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।

পিরিয়ড বন্ধ থাকলে কী সমস্যা হতে পারে-

দীর্ঘদিন পিরিয়ড না হলে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণে জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি মাথাব্যথা, চুল পড়া, ব্রণ, মুখে অতিরিক্ত লোম, তলপেটে ব্যথা বা স্তন থেকে অস্বাভাবিক তরল বের হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হলে দুশ্চিন্তা না করে কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

পরপর তিন মাস মাসিক না হলে গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষা বা আলট্রাসনোগ্রামের মতো পরীক্ষা করতে পারেন।

পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সম্ভাব্য কারণের মধ্যে গর্ভধারণও রয়েছে। তাই যৌনভাবে সক্রিয় নারীর মাসিক বন্ধ হলে প্রথমেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

কিশোরীদের ক্ষেত্রে-

১৫ বছর বয়সের মধ্যেও পিরিয়ড শুরু না হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। হরমোনের সমস্যা বা প্রজনন অঙ্গের গঠনগত কোনো সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। যা করবেন

  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।
  • মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরমোনের ওষুধ খাবেন না।

হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া সবসময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে কারণ না জেনে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করাও ঠিক নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank