সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদা সকল রোগ নিরাময়ের দাদা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২২ পিএম আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

আদা আমাদের রান্নাঘরের পরিচিত মসলা। এতে জিঞ্জেরলসহ বিভিন্ন সক্রিয় উপাদান রয়েছে, যেগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে আদাকে ‘সব রোগের নিরাময়’ বলা ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বমি বমি ভাব ও হজমের সমস্যায়

আদা বমি বমি ভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। খাবার হজমে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা বা গ্যাসের ক্ষেত্রেও অনেকের উপকার হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের পেটব্যথা, আমাশয় বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে শুধু আদার ওপর নির্ভর না করে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

ঠান্ডা-কাশিতে

আদা দিয়ে তৈরি গরম চা বা পানীয় গলা আরাম দিতে পারে। মধুর সঙ্গে আদা খেলে কাশির অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। তবে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, উচ্চ জ্বর বা বুকে ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

শিশুকে মধু দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স বিবেচনা জরুরি। এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।

জয়েন্টের ব্যথায়

আদার প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্যের কারণে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যায় ব্যথা বা অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি জয়েন্টের রোগ স্থায়ীভাবে নিরাময় করে এমন প্রমাণ নেই।

মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনে

কিছু গবেষণায় মাইগ্রেনের উপসর্গ কমাতে আদার সম্ভাব্য উপকারের কথা পাওয়া গেছে। তবে বারবার বা তীব্র মাথাব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু আদা খেয়ে সমস্যার চিকিৎসা করা উচিত নয়।

রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা

আদা রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনকারীদের অতিরিক্ত আদা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। আদাকে কোনোভাবেই নির্ধারিত ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

কীভাবে খাবেন

রান্নায় পরিমিত আদা ব্যবহার করা সাধারণত নিরাপদ। আদা দিয়ে চা বা গরম পানীয়ও খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত আদা খেলে বুকজ্বালা, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে।

বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, যাদের পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে, অথবা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন- তাদের বেশি পরিমাণে আদা বা আদার সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আদা স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ হতে পারে, কিন্তু হৃদ্‌রোগ, হাঁপানি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার বা অন্য কোনো গুরুতর রোগের ‘প্রাকৃতিক নিরাময়’ হিসেবে আদাকে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন