

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনেকেই মনে করেন স্কুল বা কলেজ জীবনের পর আর প্রকৃত বন্ধু পাওয়া যায় না। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রকে ভাবা হয় কেবলই দায়িত্ব আর প্রতিযোগিতার জায়গা।
তবে বাস্তবতা হলো, দিনের একটা বড় অংশ একসঙ্গে কাটানো, একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এবং একঘেয়েমি দূর করতে গিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠা খুব স্বাভাবিক।
কিন্তু এই ভালোলাগার সম্পর্কই যখন পেশাদার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে রিলেশন এক্সপার্টরা বলেন ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’।
যেভাবে ক্ষতি করে ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’
কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা যখন পেশাগত দায়িত্বের ওপর প্রভাব ফেলে, তখন তা পুরো টিমের কাজের পরিবেশ নষ্ট করে। এর মূল প্রভাবগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
কাজের মানে ঘাটতি: বন্ধুত্ব যখন খুব গভীর হয়, তখন বন্ধুর ভুল বা কাজে ফাঁকি দেওয়া চোখে পড়লেও তা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। বন্ধুকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে রিপোর্ট করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা কাজের মান কমিয়ে দেয়।
উৎপাদনশীলতা ও মনোযোগ হ্রাস: কাজের ফাঁকে চা বা কফির আড্ডা রিফ্রেশমেন্টের জন্য ভালো, তবে তা যদি অভ্যাসে পরিণত হয় তবে কাজের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। অতিরিক্ত গালগল্পের কারণে নির্দিষ্ট ডেডলাইন মিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
অতিরিক্ত কাজের চাপ: বন্ধু সহকর্মীর অনুরোধে ‘না’ বলতে না পেরে অনেকেই নিজের কাজ ফেলে অন্যের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। এর ফলে নিজের কাজের ওপর চাপ বাড়ে এবং মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়।
অফিসের বিষাক্ত পরিবেশ ও গসিপ: অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা থেকে অনেক সময় ব্যক্তিগত চর্চা বা গসিপ ছড়ায়। কোনো কারণে দুই বন্ধুর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলে তা পুরো অফিসের পরিবেশকে অস্বস্তিকর ও বিষাক্ত করে তোলে।
আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত: সহকর্মী যখন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়, তখন পেশাদার দ্বিমতকেও অনেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেন। এই ক্ষোভ বা অভিমান থেকে অনেক সময় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো আবেগপ্রবণ ও ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
কাজ ও সম্পর্কের ভারসাম্য
কর্মক্ষেত্রে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি, তবে তার চেয়েও বেশি জরুরি একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দেওয়া। প্রথম ইমপ্রেশনে ভালো আচরণের পাশাপাশি কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিৎ-
কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে আবেগের চেয়ে পেশাদারিত্বকে (Professionalism) বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।
সহকর্মীর সঙ্গে সহযোগিতা, সম্মান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন আপনার সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব এবং কাজের মানকে প্রভাবিত না করে।
পেশাগত দায়িত্বকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাখলেই কর্মজীবন টেকসই, স্থিতিশীল এবং সফল হবে।
