

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রোক্রাস্টিনেশন বা কাজ পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা হলো কোনো কাজ শেষ করার সময়সীমা জানা থাকা সত্ত্বেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে অকারণে দেরি করা। এটি সময়ের অভাবের চেয়ে বরং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা। আমরা ব্যর্থতার ভয় বা দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে কাজ জমিয়ে রাখি। ফলে শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ বেড়ে যায়, মানসিকভাবে অস্থির বোধ হয় এবং আত্মবিশ্বাসের অভাববোধ হয়।
বেডটাইম রিভেঞ্জ প্রোক্রাস্টিনেশন হলো সারাদিনের ব্যস্ততা ও দায়িত্বের পর নিজের জন্য ব্যক্তিগত সময় (মি-টাইম) বের করতে না পেরে, ঘুমের সময় সচেতনভাবেই জেগে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বা বিনোদনমূলক কাজ করা। এটি একটি বিশেষ ধরনের আচরণ, যেখানে মানুষ সারাদিন নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় রাতের ঘুমের সময় কমিয়ে দিয়ে বিনোদন বা নিজের পছন্দের কাজে সময় ব্যয় করে।
সাধারণ প্রোক্রাস্টিনেশন ঘটে দিনের যেকোনো সময় কাজের ক্ষেত্রে। আর বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন ঘটে মূলত রাতে, ঘুমের ঠিক আগে। এদের উদ্দেশ্য থাকে কঠিন বা বিরক্তিকর কাজ এড়ানো এবং ঘুমের বিনিময়ে হলেও নিজের জন্য একটু স্বাধীনতা বা আনন্দ খুঁজে নেওয়া।
প্রোক্রাস্টিনেশনে কাজ না করার একটা তীব্র অপরাধবোধ কাজ করে। কিন্তু বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশনে মানুষ অপরাধবোধের চেয়ে বিনোদন উপভোগের চেষ্টা বেশি করে (যদিও পরে ক্লান্ত লাগে)।
এটি থেকে উত্ততরণের উপায় হলো- দিনের বেলায় বিরতি নেওয়া। সারাদিনের কাজের ফাঁকে অন্তত ১৫-২০ মিনিট নিজের পছন্দের কিছু করুন। এতে রাতে প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা কমবে।
ঘুমানোর অন্তত ৩০-৬০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে রাখুন। প্রোক্রাস্টিনেশন কমাতে বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ফেলুন।
