

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কোরবানি ঈদে বিপুল পরিমাণ মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে একটু বাড়তি সতর্কতার মাধ্যমে যেভাবে ফ্রিজের পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কোন ঝামেলা ছাড়াই মাংস সংরক্ষন করতে পারবেন-
১. ফ্রিজ পরিষ্কারের সময় বাড়তি সতর্কতা ও গভীর ক্লিনিং
• ফ্রিজের দরজার চারপাশে যে রাবারের বর্ডার (Gasket) থাকে, সেখানে সবচেয়ে বেশি জীবাণু ও ময়লা জমে। পুরনো টুথব্রাশে সামান্য বেকিং সোডা বা ডিশ ওয়াশিং লিকুইড লাগিয়ে এই অংশটি ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করুন।
• ফ্রিজের পেছনে বা নিচে থাকা কয়েলে ধুলা জমলে ফ্রিজের ঠান্ডা করার ক্ষমতা কমে যায়। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা শুকনো ব্রাশ দিয়ে এই ধুলা পরিষ্কার করে নিলে ফ্রিজ দ্রুত ঠান্ডা হবে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমবে।
ফ্রিজ অন করার সঠিক সময়:
পরিষ্কার করার পর ফ্রিজের সব পার্টস ভালোভাবে শুকিয়ে ভেতরে ঢোকাতে হবে। এরপর ফ্রিজ চালু করে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা খালি অবস্থায় চালাতে হবে, যাতে ভেতরে পর্যাপ্ত ঠান্ডা বা বরফ জমে মাংস রাখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
২. মাংস প্যাকিংয়ের নিয়ম
• মাংস কাটার পর ভালো করে ধুয়ে বড় ঝুড়িতে রেখে রক্ত ও পানি পুরোপুরি ঝরিয়ে নিতে হবে। ভেজা মাংস ফ্রিজে রাখলে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ছড়ায় এবং মাংসের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।
• মাংসে অতিরিক্ত চর্বি থাকলে তা ফ্রিজে বেশিদিন রাখলে একটা গন্ধ হয়ে যায়। তাই সংরক্ষণের আগে অতিরিক্ত চর্বি কেটে বাদ দেওয়া ভালো।
• মাংস রাখার জন্য সাধারণ পাতলা পলিথিন ব্যবহার না করে জিপলক ব্যাগ বা ফুড-গ্রেড প্লাস্টিক বক্স ব্যবহার করুন। ব্যাগে মাংস ভরার পর ভেতরের বাতাস চেপে বের করে মুখ আটকে দিন। এতে মাংস 'ফ্রিজার বার্ন' বা অতিরিক্ত বরফ জমে শক্ত হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
৩. ফ্রিজে মাংস গোছানোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
একসঙ্গে অনেক মাংস রাখলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই গোছানোর সময় এই নিয়মগুলো মানা উচিত:
• মাংসের প্যাকেটগুলো গোল বলের মতো না করে চ্যাপ্টা করে রাখুন। এতে প্যাকেটগুলোর ওপর নিচে ঠান্ডা বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে এবং মাংস দ্রুত জমে যায়।
• ডিপ ফ্রিজে একবারে পুরোটা মাংস গাদাগাদি করে রাখবেন না। প্রথমে কিছু প্যাকেট রেখে সেগুলো জমে শক্ত হওয়ার পর বাকি প্যাকেটগুলো রাখুন।
• প্যাকেটের গায়ে মার্কার দিয়ে লিখে রাখুন কোনটা গরুর মাংস, খাসির মাংস, মগজ বা কলিজা। এতে রান্নার সময় পুরো ফ্রিজ ওলটপালট করতে হবে না।
৪. বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
ঈদের সময় গরমের কারণে বা অতিরিক্ত লোডের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে। সেজন্য প্রস্তুতি রাখুন:
• মাংস রাখার পর ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা একদম সর্বোচ্চ ঠান্ডায় (-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে) সেট করে দিন।
• মাংস রাখার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজের দরজা খুব বেশি না খোলাই ভালো। এতে ভেতরে ঠান্ডা বাতাস স্থায়ী হতে পারে।
• যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, তবে ফ্রিজের দরজা একদম খুলবেন না। বন্ধ ফ্রিজে প্রায় ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত মাংস নিরাপদ থাকে।
ঈদের এই আনন্দের সময়ে আগেভাগেই এই গোছগাছগুলো সেরে রাখলে মাংস নষ্ট হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকবে না এবং আপনার কষ্ট ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
