

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কোরবানির পশু কেনার সময় বা হাটে নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রথমেই পশুটিকে ভিড় ও রোদ থেকে সরিয়ে ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি পান করাতে হবে এবং জোর করে হাঁটানো বা টানাটানি করা যাবে না। খাবার পুরোপুরি বন্ধ না করে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে।
পশুর শরীর গরম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া, খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া, পাতলা পায়খানা বা দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হওয়া—এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে কাছের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ইনজেকশন ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অসুস্থ পশুকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
এ ছাড়া পশু কেনার আগে চোখ উজ্জ্বল কি না, নাক দিয়ে পানি পড়ছে কি না, স্বাভাবিকভাবে হাঁটছে কি না এবং শরীরে কোনো ঘা বা ফোলা আছে কি না—এসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত। দ্রুত চিকিৎসা ও সঠিক পরিচর্যা পেলে অধিকাংশ পশুই সুস্থ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে গরুর অসুস্থ হওয়ার ঘটনা অনেক বেড়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালেও রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী বড় পশুর হাটে ট্রাক থেকে নামানোর পরপরই একটি গরু জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে রোগাক্রান্ত বা অর্ধমৃত গরু দ্রুত জবাই করে কম দামে মাংস বিক্রি করে কোনোমতে ক্ষতির মাত্রা কমানোর চেষ্টা করেন খামারিরা, আবার কোনো পশুর মৃত্যুতে হাটের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড গরমে এবং ভ্রমণের ক্লান্তিতে গবাদিপশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই অবস্থা এড়াতে দূরপথ পাড়ি দিয়ে ট্রাকে বা নৌযানে গরু আনার সময় অবশ্যই কাপড় বা ত্রিপলের ছাউনি ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে খামারিদের নিজেদের কাছে অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ, স্যালাইন ও থার্মোমিটার রাখতে হবে।
ভ্রমণের সময় খেয়াল রাখতে হবে গরুর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা ঝরে কি না কিংবা পাতলা পায়খানা হয় কি না। গরুর শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার জন্য হাতের তালুর পেছনের অংশ দিয়ে কানের পেছনে স্পর্শ করা যেতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে গরুর পায়ুপথে থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মেপে নেওয়া উচিত। হাটে আনার পথে বা হাটে কোনো গরু জ্ঞান হারালে তাৎক্ষণিকভাবে তার মাথায় ও শরীরে পানি ছিটাতে হবে এবং কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করাতে হবে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর এস এম নজরুল ইসলামের মতে, ‘প্রচণ্ড গরম আর ভ্রমণের ক্লান্তিই মূলত গবাদিপশু অসুস্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। এমন পরিস্থিতিতে হাটে আনার পর প্রথম কাজ হলো গরুটিকে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা। এরপর ভালো করে গোসল করিয়ে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত খাবার দিতে হবে।’
তিনি পরামর্শ দেন, হাটে আনার পরপরই কোনো গরু জ্ঞান হারালে প্রতি ১ লিটার পানিতে ২ প্যাকেট নরমাল খাবার স্যালাইন মিশিয়ে দ্রুত তা পান করাতে হবে। পাশাপাশি ক্লান্ত গরুর শক্তি জোগাতে প্রাণিচিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ও গ্লুকোজ-সমৃদ্ধ ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। যদি গরু জ্বরে আক্রান্ত হয়, তবে প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৫০ কেজি ওজনের একটি গরুর জন্য একটি এবং বড় আকৃতির গরুর জন্য দুটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিতে হবে। তবে প্রাথমিকভাবে সুস্থ হলেও পরবর্তীতে হাটে দায়িত্বরত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা নিকটস্থ ভেটেরিনারি চিকিৎসককে অবশ্যই দেখাতে হবে, অন্যথায় প্রচণ্ড গরমে যেকোনো সময় পশুটি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
