

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন ঘরের ভেতর স্বস্তি ধরে রাখা যেন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বাড়ছে তাপমাত্রা, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহার ও খরচ। অনেকের পক্ষেই সারাক্ষণ এসি চালিয়ে রাখা সম্ভব নয়, আবার অনেকে পরিবেশের কথা ভেবে এসির ব্যবহার কমাতে চান।
তবে সুখবর হলো, কিছু সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করলেই এসি ছাড়াও ঘরকে রাখা যায় তুলনামূলক ঠান্ডা ও আরামদায়ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর ঠান্ডা রাখার এই কৌশলগুলো শুধু সাশ্রয়ীই নয়, বরং স্বাস্থ্যকরও।
১. জানালা ও পর্দা ব্যবহারে সচেতন হোন
দিনের বেলায় সূর্যের তাপ সরাসরি জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে এবং ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তাই জানালায় ঘন কাপড়ের বা তাপ প্রতিরোধী পর্দা ব্যবহার করা উচিত। হালকা রঙের পর্দা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে, ফলে তাপ কম ঢোকে।
২. সঠিক সময়ে জানালা খুলুন
ভোরবেলা ও গভীর রাতে বাইরের বাতাস তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। এই সময় জানালা খুলে দিলে ঘরের ভেতরের গরম বাতাস বের হয়ে যেতে পারে এবং বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভেতরে প্রবেশ করে ঘরকে শীতল করে।
৩. ক্রস ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করুন
ঘরের বিপরীত পাশে থাকা জানালা বা দরজা খোলা রাখলে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে সেদিকে নজর রাখা জরুরি। এতে ঘরের ভেতরের গরম বাতাস দ্রুত বের হয়ে যায় এবং শীতল বাতাস প্রবেশ করে, যা প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখে।
৪. অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স বন্ধ রাখুন
টেলিভিশন, কম্পিউটার, এমনকি অতিরিক্ত লাইট থেকেও তাপ উৎপন্ন হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া এসব যন্ত্র চালু না রাখাই ভালো। এতে শুধু তাপই কমবে না, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও হবে।
৫. সিলিং ফ্যান সঠিকভাবে ব্যবহার করুন
অনেকেই জানেন না যে ফ্যানের ঘূর্ণনের দিক পরিবর্তন করে বাতাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গরমকালে ফ্যান এমনভাবে চালানো উচিত যাতে তা নিচের দিকে বাতাস ঠেলে দেয়, ফলে শরীরে ঠান্ডা অনুভূতি বেশি পাওয়া যায়।
৬. ভেজা কাপড় বা পানির বাটি ব্যবহার করুন
ঘরের ভেতরে পানির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। যেমন—ভেজা কাপড় ঝুলিয়ে রাখা বা একটি পাত্রে পানি রেখে দিলে তা ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হয়ে আশপাশের বাতাস ঠান্ডা করে। এই পদ্ধতিকে প্রাকৃতিক ‘এভাপোরেটিভ কুলিং’ বলা হয়, যা অত্যন্ত কার্যকর।
৭. ছাদে পানি দিন
বাড়ির ছাদে পানি দেওয়া একটি পুরোনো কিন্তু কার্যকর কৌশল। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ছাদে পানি ছিটিয়ে দিলে তা তাপ শোষণ কমায়। বিশেষ করে টিন বা কংক্রিটের ছাদে এই পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর।
৮. হালকা রঙের বিছানাপত্র ব্যবহার করুন
বিছানাপত্রের রঙ ও কাপড়ের ধরনেও প্রভাব পড়ে ঘরের তাপমাত্রায়। গাঢ় রঙের কাপড় তাপ বেশি শোষণ করে, তাই হালকা রঙের সুতি কাপড় ব্যবহার করলে তা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ঘুমও হয় আরামদায়ক।
৯. গাছপালা রাখুন ঘরে ও বারান্দায়
ঘরের ভেতর ও বারান্দায় গাছপালা রাখা যেতে পারে। গাছপালা শুধু পরিবেশ সুন্দরই করে না, বরং বাতাসকে ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ রাখতেও সাহায্য করে। ছোট ছোট টবের গাছ বা মানিপ্ল্যান্টের মতো গাছ সহজেই রাখা যায়।
১০. রান্নার সময় কম তাপ ব্যবহার করুন
দিনের গরম সময়ে দীর্ঘ সময় রান্না করলে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই সম্ভব হলে সকালে বা সন্ধ্যায় রান্না করা ভালো, অথবা কম তাপ লাগে এমন খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সহজ পদ্ধতি মেনে চললে এসির ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে যেমন বিদ্যুৎ খরচ কমে, তেমনি পরিবেশের ওপর চাপও কম পড়ে। বর্তমান সময়ে যখন জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, তখন এই ধরনের সচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
মন্তব্য করুন
