

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর মধ্যে বিয়ে অন্যতম। শুধু একসঙ্গে থাকা বা দায়িত্ব ভাগ করার নাম নয়, বিয়ের প্রভাব শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা গেছে, বিয়ে পুরুষদের বার্ধক্য ধীর করে, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।
বিয়ের প্রভাব পুরুষ ও নারীর উপর
ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যাল ওয়ার্ক সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বিবাহিত পুরুষরা অবিবাহিতদের তুলনায় ধীরগতিতে বুড়িয়ে যান। বিশেষ করে যারা সুখী দাম্পত্য জীবন যাপন করেন, তারা মানসিকভাবে উৎফুল্ল থাকেন এবং দীর্ঘ সময় তাদের তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম হন। তবে বিয়েবিচ্ছেদ, সঙ্গীর মৃত্যু বা আলাদা হয়ে যাওয়ার ঘটনা তাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নারীদের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। গবেষণায় দেখা গেছে, অবিবাহিত নারীরা বা যারা দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীন জীবনযাপন করেন তারা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় তারুণ্য ধরে রাখতে পারেন। বরাবরের মতো বিয়েবিচ্ছেদ বা বিধবা নারীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্য সমস্যা বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ, নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে বার্ধক্য।
কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাবেল হো বলেন, ২০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিকভাবে ভালো থাকা মানুষের শরীরে বার্ধক্য ধীর হয় এবং তারা দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখতে পারেন। বিয়ের সঙ্গে মানসিক সুস্থতার সম্পর্কের কারণে, সুখী বিবাহিত পুরুষদের শরীরে বার্ধক্য ধীরগতিতে আসে। আবার অসুখী বা মানসিকভাবে চাপগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিয়ার কোনো ধীর প্রভাব দেখা যায় না।
গবেষণায় ৪৫ থেকে ৮৫ বছর বয়সী পুরুষ ও নারীদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং আবেগীয় দিকগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়। টানা ২০ বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল নিশ্চিত করেছে, জীবনের ধারাবাহিকতা ও মানসিক সুস্থতা বার্ধক্য ও তারুণ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিয়ে কেবল সামাজিক বা আইনগত বন্ধন নয়, এটি শরীর ও মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। পুরুষদের ক্ষেত্রে সুখী বিবাহ দীর্ঘদিনের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে, তবে নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, বিয়ে বার্ধক্য থামানোর একমাত্র উপায় নয়, মানসিক শান্তি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সুখী সম্পর্ক মিলিয়ে এটিই মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্য করুন

