বৃহস্পতিবার
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে যা করবেন 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫০ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

বর্তমানে বিরাজমান আবহাওয়া হচ্ছে বিকেল থেকে সকাল পর্যন্ত ঠাণ্ডাভাব থাকে। আর বেলা বাড়ার সঙ্গে রোদের তাপ বেড়ে যায়। গরম অনুভূত হয়। এক কথায় সারা দিনে তাপমাত্রা বার বার ওঠা-নামা করে। ফলে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সংক্রমণও বাড়ে। বসন্তের আগেই জীবাণুবাহিত জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বেশি হয়। এই সময় হাম, পক্স হয়। এমনকি হতে পারে চোখের সংক্রমণ। তাই এই সময়টাতে শিশুদের সবচেয়ে বেশি সাবধানে রাখা জরুরি। বাবা-মায়েরা কী ভাবে সামলাবেন, রইল কিছু পরামর্শ।

কোন কোন রোগ থেকে সতর্ক থাকতে হবে?

আরএসভি সংক্রমণ

এই সময়ে ভাইরাল জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ে। ছোটরাই বেশি ভোগে। ভারতীয় চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে, ‘‘ঠান্ডা লাগার ফলে টনসিল রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হয়। এর ফলে জ্বর আসে।’’ তাই বাড়িতে কারও জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে, ছোটদের দূরে রাখতে হবে।

ডায়েরিয়ার প্রকোপ

খাবারের সঙ্গে বা পানীয়ের মাধ্যমে নানা জীবাণুর সংক্রমণ হয় এই সময়ে। ফলে ডায়েরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। ছোটদের বাইরের খাবার, পানীয়, শরবত কোনও কিছুই খাওয়ানো যাবে না। পানি ফুটিয়ে পান করাতে হবে।

হাম ও পক্সের প্রকোপ

এ সময় পক্স হচ্ছে। বসন্ত রোগ এটি ভেরিসলা জস্টার নামক ভাইরাস থেকে হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, ‘‘এই রোগ শীতকালের শেষ ও বসন্তকালে বেশি হয়। আগে থেকে জ্বর আসে পরে সারা শরীরে ফোস্কার মত ছোট আকারে বার হয়। সারা শরীর জ্বালা করে। এই রোগের স্থায়িত্ব সাত থেকে পনেরো দিন পর্যন্ত হতে পারে।’’ ভেরিসলা জস্টার ভাইরাস আক্রমণ করলে জ্বর যদি তিন থেকে চার দিনের বেশি থাকে, তা হলে আগে থেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

ব্রঙ্কাইটিস

ঋতুপরিবর্তনের সময় পাঁচ থেকে দশ বছরের শিশুর যদি হাঁপানি থাকে, অথবা ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। কারণ এই সময়ে হাঁপানি, অ্যালার্জিজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ে।

বাবা-মায়েরা কীভাবে সামলাবেন?

সময়মতো টিকা দিতে পারলে অনেক ভাইরাসজনিত রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আর সাবধানতা হিসেবে রোগের লক্ষণ ধরা পড়ার পরে বাড়ির অন্য সকলকে একটু সতর্ক থাকা দরকার।

যেমন

রোগ ধরা পড়লে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে। এই সময় খাবার তালিকায় সজনেডাঁটা, সজনেফুল, সজনেশাক ও নিমপাতা খেলে ভাল হয়। খুব বেশি ঠান্ডা লাগানো যাবে না। দিনে সুতি পোশাক পরানো ভাল। রাতে বাইরে বেরোলে গরম পোশাক পরাতে হবে শিশুকে।

এই ঋতুতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। কোনও শিশুর কাশি হয়, কারও বা রাত্রে ঘুমোবার সময় নাক বন্ধ হয়ে যায়। অনেক শিশু কাশির প্রভাবে সারা রাত ঘুমাতে পারে না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো বিপজ্জনক হতে পারে।

শিশুর প্রস্রাব ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা-ও নজরে রাখতে হবে। প্রস্রাব যদি দিনে পাঁচ বারের কম হয়, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X