

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানবদেহের সবচেয়ে রহস্যময় অঙ্গগুলোর একটি হলো হৃদযন্ত্র। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাশাস্ত্র বলেছে, হার্ট কেবল মস্তিষ্কের নির্দেশ মেনেই কাজ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নতুন চমকপ্রদ তথ্য আবিষ্কার করেছেন, হৃদযন্ত্রেরও রয়েছে একটি ক্ষুদ্র "ব্রেইন"।
শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর আগে কোরআনেই এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছিল। যেমন সুরা মুহাম্মদ (আয়াত ২৪)-এ বলা হয়েছে: ‘তবে কি তারা কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো আছে?’ এখানে হৃদয়ের চিন্তাশক্তির বিষয়টি উঠে এসেছে।
গবেষণায় কী জানা গেল?
সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা নতুন অনুসন্ধানে দেখেছেন, হৃদযন্ত্রে একটি বিশেষ নার্ভাস সিস্টেম আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ইন্ট্রাকার্ডিয়াক নার্ভাস সিস্টেম (ICNS)।
এই সিস্টেম শুধু হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণেই নয়, আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এটি মস্তিষ্কের ওপর নির্ভর না করেই কাজ চালাতে পারে।
অর্থাৎ, হার্ট চাইলে নিজস্ব ছন্দে চলতে সক্ষম-যেন একটি ছোট্ট মস্তিষ্ক বসানো আছে ভেতরে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল
গবেষকরা জেব্রাফিশ নিয়ে পরীক্ষা চালান, কারণ এর হৃদযন্ত্রের গঠন মানুষের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। দেখা যায়....
হৃদযন্ত্রের মূল কেন্দ্র সাইনোট্রিয়াল প্লেক্সাস (SAP), যা অনেকটা পেসমেকারের মতো কাজ করে।
এখানে অসংখ্য নিউরন পাওয়া গেছে।
নিউরনগুলো একে অপরের সঙ্গে অ্যাসিটাইলকোলিন, গ্লুটামেট ও সেরোটোনিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে।
এই কারণেই হৃদযন্ত্র মস্তিষ্ক থেকে আলাদা থেকেও নিজে নিজেই হৃদস্পন্দন চালু রাখতে সক্ষম হয়।
চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত
হৃদয়ের এই ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’ বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য বড় আবিষ্কার হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ গবেষণা অ্যারিথমিয়া (হৃদস্পন্দনের অনিয়ম) এবং জটিল কার্ডিয়াক রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন

