বৃহস্পতিবার
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই হামলায় অভিযুক্ত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নিয়ে কুবি ইউট্যাবের ইফতার মাহফিল

কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩২ এএম
কুবি ইউট্যাবের ইফতার মাহফিল
expand
কুবি ইউট্যাবের ইফতার মাহফিল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) আয়োজিত ইফতার মাহফিল কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে আওয়ামীপন্থী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকরা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আওয়ামীপন্থী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলায় অভিযুক্ত এবং নৈতিক পদস্খলনজনিত কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে ইফতার মাহফিল করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশনের (ইউট্যাব) বিরুদ্ধে।

গত ‎সোমবার (২৩ ফেব্রুযারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স লাউঞ্জে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব এ আয়োজন করে।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের অনেক শিক্ষক নেতাদের উপস্থিত হতে দেখা যায়।

প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের শিক্ষক-নেতাদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন‚ অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন, অর্থনীতি বিভাগ সহকারী অধ্যাপক স্বর্ণা মজুমদার, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম, গণিত বিভাগের জিল্লুর রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অমিত দত্তসহ অনেক আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষক হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার সহ অনেকেই ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেননি। অনেকেই এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় অভিযুক্তদের পুনর্বাসন করার অভিযোগ আনছেন।

এ বিষয়ে ইউট্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক কার্যকরী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘ইউট্যাব হলো জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবি সংগঠন। আমরা যে ইফতারের আয়োজন করেছি সেটা শুধু জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসীদের জন্য আয়োজন করেছি এমনটা না।

আমরা সকল মতবাদের শিক্ষকদেরকে দাওয়াত করেছি। জাতীয় পর্যায়ে যেমন বিএনপির ইফতার পার্টিতে জামাত, এনসিপি সহ সবাইকে দাওয়াত করেছে আবার জমাত, এনসিপির ইফতার পার্টিতে বিএনপি কে দাওয়াত করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে চিহ্নিত অপরাধে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের-কে আমন্ত্রণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটা গনতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে।

ব্যক্তিগতভাবে কোন শিক্ষক এগুলোতে যুক্ত থাকলে সেটার দায় নিজেকেই নিতে হবে আমরা নিবো না। বিচারের আওতায় আসলে তাদের বিচার হবে‚ আমাদের সমস্যা নেই।’

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের শিক্ষক নেতাদের পূর্নবাসন করছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা করার কোনো সুযোগ নেই। এটা যদি করা হয় তাহলে জুলাইয়ের চেতনা নস্যাৎ হবে। কিছুতেই এটার সুযোগ নেই।

এখানে যারা আসছে সবাই যে জাতীয়তাবাদ আদর্শের বিশ্বাসী এমন না। শিক্ষক হিসেবে তারা যোগ দিয়েছে। আমরা দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিমন্ত্রণ করেছি। অন্য কোনো মতাদর্শ বা জুলাই আন্দোলনে যারা নেগেটিভ ভূমিকা পালন করছে তাদেরকে পূর্নবাসন করা প্রশ্নই আসে না। সেক্ষেত্রে এটা জুলাই বিরোধী কর্মকাণ্ড হবে। এটা করার কোনো সুযোগ নেই। যেসব শিক্ষকরা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হোক সেটা আমরাও চাই।’

এ বিষয়ে ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহিন উদ্দিন বলেন‚ ‘আপনি যা বলেছেন তা ঠিক। এমন শিক্ষক থাকতে পারে‚ তবে দিনশেষে তারাও তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। গতকাল যা হয়েছে সেটা তো ইফতার পার্টি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। রাজনৈতিক অনুষ্ঠান না।

এখানে ধর্মীয়ভাবে বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের জন্য দোয়া করা হয়েছে। এখানে দলমত নির্বিশেষে জামায়াতের, আওয়ামীলীগের, বিএনপির মানুষকে ইনভাইট করা হয়েছে। যারা কোনো দল করে না তাদেরকেও ইনভাইট করা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না। আমরা যদি রাজনৈতিক কোর উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে আমরা জাতীয়তাবাদ আদর্শের বিশ্বাসী লোকদেরকে নিয়ে করতাম।’

আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদেরকে পূর্নবাসন করার জন্য এমন কিছু করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো ক্ষমতা আছে? আমরা কোনো পাওয়ারে গেসি? নাকি পদে আছি? আমরা কি আওয়ামী লীগের কাউকে প্রমোট করার জন্য তদবির করছি? মূল বিষয় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের শিক্ষক থাকবে বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা থাকবে। আমরা বিএনপিপন্থী, জামাতপন্থী যারা আছি তাদের কারোই সুযোগ নেই আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদেরকে এড়িয়ে চলার। তাদের সাথে আমাদের সামাজিক সম্পর্ক আছে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন‚ ‘বিগত ১৫ বছরে সাতবার আমি সাদা দল থেকে নির্বাচন করছি। কাউকে হাতের কাছে পাইনি। তবে এখন অনেককেই দেখতে পাচ্ছি যারা নীল দল থেকে নির্বাচিত তারা ইফতারে ছিলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা অন্যায়ের সাথে জড়িত ছিলো তাদেরকে তারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে সেটা নিয়ে আমি নিজেই হতবাক এবং চিন্তিত। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৫ বছরে আমরা যাদেরকে নীল দলে দেখেছি অর্থাৎ আওয়ামী পরিচয় দিয়েছে তারা এখন ইউট্যাব বা বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের আশ্রয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-কে অস্থির করতে চাচ্ছে এবং সেটার জন্য এরা তাদের পাশে থাকতে চায়।’

তিনি বলেন‚ ‘আমরা যারা ৪-৫ জন ১৫ বছর নির্বাচন করেছি আমরা এদের কাউকে দেখিনি। নীল দলের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬ মাস বন্ধ রাখে‚ তারা কীভাবে বর্তমান সরকার দলীয় হয়ে কাজ করে সেটা আমার মাথায় ধরে না! যারা ৬ মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখে ছাত্রদের ক্ষতি করছে তারা আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে, প্রশাসনের বিরোদ্ধে বলছে এবং আপনারা তো দেখছেন তারা কারা? যারা ১৫ বছর আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম বহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতি নিয়েছে। তাদের অনেকের অন্যায় করার কারণে সাজাও হয়েছে। অনেকের সাজার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন,‘এখন ইউট্যাবের যারা আছে তারা যদি বলে সবাইকে নিয়ে চলতে হবে তাহলে তো কিছু করার নেই। ইউট্যাবের সভাপতি শাহাদাত স্যার তিনিও তো নীল দলের নির্বাচিত সদস্য। পরবর্তীতে এখনও তো নির্বাচন হয়নি। যারা ছাত্রদের ক্ষতি করছে পেশাজীবি সংগঠনের হয়ে‚ তাদেরকে আমি পল্টিবাজ বলবো।

যারা নীল দলের ছিলো তারা এখন ইউট্যাবের পাছ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বেকায়দায় ফালানোর জন্য বসে আছে। আমরা যারা সাদা দলের কয়েকজন আছি আমরা সবসময়ই বলছি আমরা প্রশাসনে থাকি না থাকি কখনো প্রশাসনের ক্ষতি করবো না।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X