

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ৬ শ্রেণির পরিবার এ সুবিধা পাবে না। শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হবে। আগামী ১০ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে ১৪টি উপজেলায় কার্ড বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
যাঁরা কার্ড পাবেন না: নীতিমালায় বলা হয়েছে, ১। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি পেনশনভোগী হলে। ২। সরকারি চাকরিজীবী থাকলে ৩।বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী বা বড় ব্যবসার মালিক হলে। ৪। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক হলে। ৫। বাড়িতে এসি ব্যবহার করলে। ৬। উল্লেখযোগ্য বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে। সেইসব পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর অযোগ্য বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে এমন পরিবার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী—হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এবং সর্বোচ্চ ০.৫০ একর জমির মালিক পরিবারকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। দারিদ্র্য ও সম্পদের মানদণ্ড বিবেচনায় যোগ্যতা নির্ধারণ হবে।
পাইলট কার্যক্রম ও আর্থিক সহায়তা
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ৫০০ পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে। প্রত্যেক পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবে।
সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে।
পাইলট প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যার ৭৭ শতাংশ সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কর্মসূচি চার মাসের মধ্যে শেষ করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ২ কোটি পরিবারকে এ আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা
বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ধীরে ধীরে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কাঠামোয় একীভূত করা হবে। একই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা ছাড়াও ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
সমন্বয়হীনতা দূর করার লক্ষ্য
সরকারি তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু আছে। তবে একাধিক সুবিধা গ্রহণ ও প্রকৃত দরিদ্র বাদ পড়ার অভিযোগ রয়েছে। নতুন কার্ডব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থায়ন ও সতর্কবার্তা
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বাজেটের অপ্রত্যাশিত খাত ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকেই এ কর্মসূচির অর্থ জোগান দেওয়া হবে। মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত অর্থ ছাপিয়ে ব্যয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এক জ্যেষ্ঠ অর্থসচিব।
বৈচিত্র্যময় এলাকা নির্বাচন
পাইলট কার্যক্রমের জন্য বস্তি, শিল্পাঞ্চল, পার্বত্য ও হাওরসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ১৩টি এলাকা বাছাই করা হয়েছে, যাতে ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে কার্যকারিতা যাচাই করা যায়।
সরকারের ভাষ্য, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শন সামনে রেখে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন

