সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশের কিশোর-কিশোরীদের অর্ধেকেরও বেশি শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand
ছবি: এনপিবি নিউজ

দেশজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে শারীরিক কর্মকাণ্ডের অভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ কিশোর ও ৪৩ শতাংশ কিশোরীর শারীরিক সক্রিয়তা পর্যাপ্ত নয়।

এছাড়া ১১ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি।

ব্র্যাক জেমস পি. গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা শহরের সমবয়সীদের তুলনায় শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয়।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এই গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিশু ও কিশোরদের শারীরিক কর্মকাণ্ডের বাংলাদেশি রিপোর্ট কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উপস্থাপনা দেন।

গবেষণার মূল ফলাফল

ডেপুটি ডিন অধ্যাপক মলয় কুমার মৃধা জানিয়েছেন, ১০–১৯ বছর বয়সের ৪৩ শতাংশ কিশোরী ও ৪০ শতাংশ কিশোর যথেষ্ট শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয় না। নিষ্ক্রিয় কিশোরদের হার ঢাকায় সর্বোচ্চ (৭১%), কিশোরীদের মধ্যে সর্বাধিক রাজশাহীতে (৬০%)।

২০২৩ সালের জাতীয় পুষ্টি সার্ভিলেন্সের তথ্য ব্যবহার করে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। দেশের ৯০টি স্থায়ী এলাকা থেকে ১১ হাজারেরও বেশি কিশোর-কিশোরীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চল ৬৪টি, শহর ১৬টি এবং শহরের বস্তি ১০টি কেন্দ্র।

২০১৮ সালের তুলনায় দেখা যায়, কিশোরদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তা বেড়েছে (২৯% থেকে ৪০%), কিশোরীদের ক্ষেত্রে কমেছে (৫০% থেকে ৪৩%)। তবে এই পার্থক্যের কারণ এখনও অনির্ধারিত।

শিশু-কিশোরদের দৈনন্দিন জীবনধারা

জরিপে দেখা গেছে, আনুষ্ঠানিক খেলাধুলা বা শরীরচর্চায় ৫৮.১ শতাংশ অংশগ্রহণ করে। ৬৫.৭% কিশোর-কিশোরী সপ্তাহে পাঁচ দিন বা তার বেশি স্কুলে হাঁটাহাঁটি বা সাইকেল চালিয়ে আসে।

দৈনিক ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে ৪০.৯%।

প্রায় ১২% কিশোর-কিশোরী মা-বাবার সহায়তা পান না এবং ৭% বন্ধুদের কাছ থেকে সহায়তা পায় না।

তবে ৬৪% প্রতিবেশীদের সহায়তা পায় এবং ৫৩% এলাকায় শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে।

স্কুলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জরিপে দেখা গেছে, ৭৬% কিশোর-কিশোরী বলেছে স্কুলে শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ৬৭% খেলাধুলার মাঠ বা কোর্ট ব্যবহার করতে পারে।

ওজন, ঘুম ও স্বাস্থ্য

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৯% ওজন স্বাভাবিক, ১১.৩% অতিরিক্ত ওজন বা স্থূল। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ১৩–১৮ বছর বয়সীদের রাতের ঘুম ৮–১০ ঘণ্টা হওয়া উচিত, তবে ৪০% কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় ঘুম পাননি।

মলয় কুমার মৃধা বলেন, “শারীরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির উদ্যোগ শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ব্যয় নয়, এটি জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য একটি বিনিয়োগ।”

অনুষ্ঠান ও সহযোগিতা

কর্মশালায় সরকারের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, ব্র্যাক জেমস পি. গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, অ্যাকটিভ হেলথি কিডস এবং অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে অংশগ্রহণ করে।

সভাপতিত্ব করেন সাবেক লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক সৈয়দ জাকির হোসেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন